
কালিগঞ্জে পিআইও ও ক্যাডার চালকের চাঁদাবাজি: সাংবাদিকদের অশালীন হুমকি ও ৩০ হাজার টাকা বেতনের উৎস নিয়ে প্রশ্ন!
বিশেষ প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে অবৈধ অর্থ আদায় এবং নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। টিআর, কাবিখা ও কাবিটাসহ নানা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের টাকা কেটে নেওয়ার পাশাপাশি কাজ তদারকির অজুহাতে এক মোটরসাইকেল চালককে দিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির তথ্য সামনে এসেছে।
অভিযোগে জানা যায়, কালিগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই নলতা ইউনিয়নের আরশাদ আলী নামের এক যুবলীগ ক্যাডারকে মোটরসাইকেল চালক হিসেবে সাথে রাখেন পিআইও মফিজুর। অফিসে সরকারি কোনো গাড়ি বা চালকের পদ বরাদ্দ না থাকলেও ওই চালককে প্রতি মাসে দেওয়া হয় ৩০ হাজার টাকা বেতন। সরকারি কোনো খাত না থাকা সত্ত্বেও এই মোটা অঙ্কের বেতনের উৎস কোথায়, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যানদের অভিযোগ, পিআইও মফিজুর রহমান নিজে সরেজমিনে না গিয়ে অধিকাংশ সময় ক্যাডার আরশাদকে সাইট পরিদর্শনে পাঠান। ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের এক সদস্য জানান, আরশাদ কাজের অগ্রগতি দেখার নামে তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করে এবং শেষ পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করে। কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের এক প্যানেল চেয়ারম্যান জানান, পিআইও অফিসে যেকোনো বিল পাস করানোর আগেই ১০ থেকে ২০ শতাংশ হারে কমিশন কেটে নেওয়া হয়। চালকের বিপুল বেতনের বিষয়ে জানতে চাইলে পিআইও নিজেই স্বীকার করেন যে, চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকা দিয়েই চালকের বেতন পরিশোধ করা হয়।
অভিযুক্ত চালক আরশাদ আলীকে বেতনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে সে অকপটে জানায়, "স্যার কি নিজের পকেটের টাকা দিয়ে আমার বেতন দেন? চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছ থেকে নিয়েই তো আমার বেতন দেওয়া হয়।"
পরবর্তীকালে সংবাদ সংগ্রহের অংশ হিসেবে স্থানীয় এক সাংবাদিক অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। প্রথমে অভিযুক্ত চালক আরশাদ চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে সাংবাদিককে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে।
এরপর বিষয়টি নিয়ে পিআইও মফিজুর রহমানের বক্তব্যের জন্য তার মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে তিনিও তীব্র ক্ষিপ্ত হন। কোনো ধরনের প্রশাসনিক শিষ্টাচারের তোয়াক্কা না করে সাংবাদিককে সরাসরি হুমকি ও অশালীন মন্তব্য করে পিআইও মফিজুর রহমান বলেন, "কিসের সাংবাদিক হয়েছেন আপনি? আমাকে কিসের জন্য ফোন দিয়েছেন? হ্যাঁ, আমি দুর্নীতি করি—তাতে কী হয়েছে? পারলে আমার বাল ছিঁড়ে নিবেন!"
সরকারি কর্মকর্তা ও তার ক্যাডার চালকের এমন নজিরবিহীন ধৃষ্টতা ও সরাসরি হুমকির ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি প্রকল্পের বাজেট থেকে এভাবে কমিশন কেটে নেওয়া এবং ক্যাডার বাহিনীকে দিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করার ফলে এলাকার উন্নয়নকাজের মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। কালিগঞ্জের স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজ অনতিবিলম্বে পুরো ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত পিআইও মফিজুর রহমান ও তার ক্যাডার চালক আরশাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম