রাজবাড়ীর কালুখালীতে সরকারি ফসলি জমি রাতারাতি পুকুর, মাটি বিক্রি করে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
নাফিজ আহমেদ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর কালুখালীতে এক সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) সহযোগিতায় খাস খতিয়ানভুক্ত কৃষি জমিতে জোরপূর্বক পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ঝন্টু শেখ নামের এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, কালুখালীর বানজানা মৌজার বিএস ৬০৪, ৬৭৬, ৬৭৭ ও ৭১৭ নম্বর দাগের বিতর্কিত ওই জমিটি ক্রয়সূত্রে গত ৫০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন মৃগী ইউনিয়নের কুয়োত আলীর পরিবার। বর্তমানে আদালতের রায়েও জমিটির দাবিদার কুয়োত আলীর কন্যা সনেকা বেগম।
চলতি বছরের ১১ মার্চ জমিতে খেসারি কলাই রোপণ অবস্থায় দখলচেষ্টার প্রতিবাদে স্বজনদের নিয়ে সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন সনেকা বেগম। সনেকা বেগম অভিযোগ করেন, ক্রয়সূত্রে তারা জমিটির মালিক হওয়া সত্ত্বেও বানজানা গ্রামের ইসমাইল শেখের ছেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ঝন্টু শেখ প্রভাব খাটিয়ে জমিটি দখলের পাঁয়তারা করছেন।
মানববন্ধনের কিছুদিন পরই উক্ত জমিটি সরকারিভাবে লিজ গ্রহণ করেন ঝন্টু শেখ। এরপরই ফসলি জমিকে ‘পুরানো পুকুর’ দাবি করে তা পুনঃখননের জন্য তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাহ উদ্দিনের কাছে আবেদন জানান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, সরেজমিনে পরিদর্শন সত্ত্বেও ইউএনও কলাই রোপণকৃত ওই কৃষি জমিতেই পুকুর খননের অনুমতি দেন।
অনুমতি পাওয়ার পর রাতারাতি শুরু হয় এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে বিক্রির উৎসব। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে ঐ কৃষিজমি থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করে হাতিয়ে নেন অভিযুক্ত ঝন্টু। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সনেকা বেগম প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় থানা ও ইউএনও কার্যালয়ে একাধিকবার ঘুরেও কোনো ফল পাননি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কৃষি জমির শ্রেণী পরিবর্তনের একচ্ছত্র এখতিয়ার ভূমি মন্ত্রণালয়ের। তা না করে বা যথাযথ প্রক্রিয়ার ব্যত্যয় ঘটিয়ে শ্রেণী পরিবর্তন করা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া ‘কৃষি জমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কৃষিজমির শ্রেণী পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম