প্রিন্ট এর তারিখ: August 30, 2026, 2:27 pm || প্রকাশের তারিখ: August 30, 2026, 12:20 pm
নিজস্ব প্রতিবেদক।। ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে মোঃ মহিবুল্লাহ আকন যোগদানের পর ভূমি সেবার কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ১৮ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র এক মাস ১৩ দিনের মধ্যেই অফিসের সেবাব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত আশুলিয়ায় জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় প্রতিদিনই ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজস্ব সার্কেলে আসেন। নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ানসহ নানা বিষয়ে সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির অভিযোগও ছিল অনেকের। নতুন এসিল্যান্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব ক্ষেত্রে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,দীর্ঘদিনের ফাইল জট কমানো, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামজারি ও অন্যান্য ভূমি সেবা নিষ্পত্তি,সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগ এবং অফিসে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দালালনির্ভরতা কমিয়ে সাধারণ মানুষ যেন সরাসরি সরকারি সেবা নিতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সেবাপ্রার্থীদের কয়েকজন জানান,ভূমি অফিসে এসে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় স্বস্তিদায়ক পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দ্রুত ফাইল নিষ্পত্তি ও নিয়ম মেনে সেবা দেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও কমবে বলে তারা আশা করছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মহিবুল্লাহ আকন বলেন,“গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী জনগণই রাষ্ট্রের একমাত্র মালিক। আমরা জনগণের সেবক মাত্র। কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া নাগরিকরা যেন তাদের কাঙ্ক্ষিত ভূমি সেবা পান,সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলকে একটি সেবাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, ভূমি সেবার ক্ষেত্রে মানুষের সময় ও ভোগান্তি কমানো এবং সরকারি সেবা সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। এজন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি সেবাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নেতৃত্বে অফিসের কার্যক্রমে গতি ফিরলে শুধু সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তিই কমবে না,ভূমি প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও আরও বাড়বে। ধারাবাহিকভাবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল একটি কার্যকর ও জনবান্ধব ভূমি অফিস হিসেবে উদাহরণ তৈরি করতে পারে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
এবিডি.কম/রাজু