প্রিন্ট এর তারিখ: September 3, 2026, 1:28 pm || প্রকাশের তারিখ: September 3, 2026, 12:26 pm
বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর বাজারে ‘মা ডেন্টাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অনুমোদন ছাড়াই দাঁতের চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে অসহায় ও সাধারণ রোগীরা প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মালিক সমরেন্দ্র চন্দ্র দাস বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে তার ভাগ্নে সকাল দাস। অভিযোগ রয়েছে, সকাল দাস রোগীদের দাঁত তোলা, রুট ক্যানেলসহ বিভিন্ন ধরনের দন্ত চিকিৎসা ও সার্জারি করে আসছেন।
তবে এসব চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সকাল দাসের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত নিবন্ধন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কখনো এক বছর মেয়াদি কোর্স করার কথা বলেন, আবার কখনো নিজেকে বাজিতপুর কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র বলে পরিচয় দেন। এ সময় তিনি উচ্চমাধ্যমিক (উন্মুক্ত) শিক্ষার একটি পরিচয়পত্রের ছবি প্রতিবেদককে দেখান।
এদিকে ‘মা ডেন্টাল’-এ অনুমোদনহীন এক্স-রে যন্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এক্স-রে সেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন, প্রশিক্ষিত জনবল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যথাযথ নিয়ম-নীতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া এক্স-রে পরিচালনা করা হলে রোগী ও সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানের মালিক সমরেন্দ্র চন্দ্র দাসের শিক্ষাগত সনদ ও পেশাগত নিবন্ধনের বিষয়ে জানতে চাইলে সকাল দাস কোনো সনদ বা নিবন্ধনের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত নিবন্ধন ও সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি দন্ত চিকিৎসা বা সার্জারি পরিচালনা করলে সাধারণ রোগীরা প্রতারণার শিকার হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাই ‘মা ডেন্টাল’-এর বৈধ কাগজপত্র, চিকিৎসাসেবা প্রদানের অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত নিবন্ধন এবং এক্স-রে যন্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুস সালেহীন বলেন, “এটি সম্পূর্ণ আইনের লঙ্ঘন হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।