আমাদের বাংলাদেশ
✉️ dailyamaderbd24@gmail.com f https://facebook.com/Dailyamaderbangladesh
প্রিন্ট এর তারিখ: September 9, 2026, 4:58 am || প্রকাশের তারিখ: September 9, 2026, 2:13 am
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগের পরও শ্যামনগরে বহাল সেই দুই পুলিশ সদস্য, সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগের পরও শ্যামনগরে বহাল সেই দুই পুলিশ সদস্য, সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ

বিশেষ প্রতিনিধি

ঘুষ গ্রহণ, ফসল নষ্ট, মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগের পরও কোনো অদৃশ্য ইশারায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায় বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন বিতর্কিত দুই পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং ঘুষ লেনদেনের অডিও রেকর্ড ভাইরাল হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ঊর্ধ্বতন মহলের পক্ষ থেকে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা প্রত্যাহারের নির্দেশ না আসায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিরুজ্জামান এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার কাশিমাড়ী মৌজায় পৈতৃক ৩৪ শতক জমি নিয়ে (এস.এ দাগ নং ২৩২, খতিয়ান ৮২৯) মো. হাশেম আলীর করা মামলার তদন্তের নামে এএসআই ইমরান ঘটনাস্থলে গিয়ে বাদীপক্ষের ক্ষেতের উঠতি ধান নষ্ট করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে এসআই আমির ও এএসআই ইমরান ৭ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেন। এই ঘুষ লেনদেনের স্পষ্ট অডিও রেকর্ড ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীদের হাতে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে।
আদালতের ১৪৫ ধারার নোটিশ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানালে পুলিশ কর্মকর্তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীপক্ষের আত্মীয় ও কোর্টের আইনজীবী সহকারী (মোহরী) হাসনাত হাসুকে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকি কাশীমাড়ী বাজারে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, কোনো পরোয়ানা ছাড়াই হাসুকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং তাঁর মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ে রাখা হয়েছে। এই লাগাতার হুমকিতে ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ ওহাব কবিরাজসহ পুরো পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। অন্যদিকে, হাসুর স্ত্রীর আসন্নপ্রসবা অবস্থাকেও তোয়াক্কা না করে চালানো হচ্ছে মানসিক নির্যাতন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, কৈখালী সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারিদের সঙ্গে গভীর সখ্য, মাসোহারা আদায় এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চাঁদা আদায় এই দুই কর্মকর্তার নিয়মিত রুটিন। থানার নাম ভাঙিয়ে এএসআই ইমরান মূলত অবৈধ লেনদেনের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কৈখালীর স্থানীয় আজিজুল মেম্বারের যোগসাজশে বর্ডারের বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
এদিকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করা হলেও টনক নড়েনি প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহলের। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের পক্ষ নিয়ে বাদীপক্ষের নামে সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি এসআই ইমরানের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে বাদীর বিরুদ্ধে প্রহসনের মানববন্ধন করানোর মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও ঘটেছে।
পুলিশের এমন নগ্ন ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঊর্ধ্বতন মহলের নীরবতায় সাধারণ মানুষের মাঝে আইনের প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। অবিলম্বে অভিযুক্ত এসআই আমিরুজ্জামান ও এএসআই ইমরান হোসেনকে শ্যামনগর থানা থেকে ক্লোজ বা প্রত্যাহারপূর্বক বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। দ্রুত এই বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়েরসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ, মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২154- ০১৩১৮-৬৮০০৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম