দেবহাটায় পৈতৃক ভিটা নিয়ে সুভদ্রার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে দিলীপের ভূমিকা
নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের টিকেট গ্রামে পৈতৃক ভিটা জবরদখলের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থান করা সুভদ্রা নামের এক নারীকে সামনে রেখে স্থানীয় এক সাবেক আওয়ামী লীগ নেতার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৈধ কোনো উত্তরাধিকার বা আইনি অধিকার না থাকা সত্ত্বেও সংঘবদ্ধভাবে এই জমি দখল করা হয়। শুধু তাই নয়, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন এবং ভারতে চলে যাওয়া ব্যক্তির বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাৎসহ নানা গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ওই নেতার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টিকেট গ্রামের রঘুনাথপুর মৌজায় বৈষ্ণব বৈদ্যের ছেলে গৌর ও গোপালের নামে থাকা পৈতৃক ভিটাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। পরিবারের সদস্য সুভদ্রা দীর্ঘকাল ভারতে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র বা আইনি মালিকানা ছাড়াই তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে ওই ভিটায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে জমি দখল করে নেন। এই দখল প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখতে স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসার নামে অর্থ লেনদেনেরও গুঞ্জন রয়েছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত নারী সুভদ্রার কাছে তার এহেন দখলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি তা এড়িয়ে যান এবং কোনো কথা বলতে রাজি হননি। অন্যদিকে, ঘটনার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিযুক্ত সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা দিলীপ মণ্ডলের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি কিংবা কোনো সদুত্তর দেননি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক দিলীপ মণ্ডল বিগত সময়ে নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। সে সময় জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, নানাভাবে হয়রানি এবং বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছিলেন তিনি। বর্তমান এই পারিবারিক জমি বিরোধ ও জবরদখলকেও ভিন্নখate প্রবাহিত করে ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছেন ওই নেতা।
জমি জবরদখলের এই ঘটনার পাশাপাশি দিলীপ মণ্ডলকে ঘিরে অতীতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বয়স্ক ভাতা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে। পূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, টিকেট গ্রামের মৃত কানাই লাল মণ্ডলের ছেলে অরবিন্দ বিশ্বাস নিজের জমিজমা বিক্রি করে সপরিবারে ভারতে চলে যাওয়ার পরও তার নামে বরাদ্দকৃত বয়স্ক ভাতার টাকা নিয়মিত উত্তোলন করে আত্মসাৎ করতেন দিলীপ মণ্ডল। বিষয়টি সে সময় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল এবং এ নিয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল।
জমির প্রকৃত কাগজপত্রের বৈধতা যাচাই না করে বহিরাগত বা দীর্ঘদিনের প্রবাসী কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে বলপূর্বক সম্পত্তি দখলের এহেন অপচেষ্টা এবং অতীতে সংঘটিত অনিয়ম ও হয়রানির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি, ব্যাংক রেকর্ড এবং প্রকৃত উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করলে এই ঘটনার নেপথ্যের আসল রহস্য উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম