
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিরাজদিখানে সাংবাদিক পরিচয়ে চুরি, অপহরণ, চাঁদাবাজি, জালিয়াতি এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মোস্তফা নামের এক কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, পুলিশ প্রশাসন ও পেশাদার সাংবাদিকদের নাম ভাঙিয়ে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এই প্রতারক। নাম লেখার মতো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও সাংবাদিকতার ভুয়া সাইনবোর্ড ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও ধান্ধাবাজিকে অপশিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে সে। প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও এলাকায় 'পান কবিরাজ' নামে পরিচিত ভুক্তভোগী শাহ জালাল-এর দেওয়া তথ্য মতে, মোস্তফা নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে উপস্থাপন করে প্রথমে তাঁর চিকিৎসা কেন্দ্রে যাতায়াত শুরু করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্যতার মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে দফায় দফায় বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে।
সালমান এফ রহমানের নাম ব্যবহার: প্রথম দফায় ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। ব্যারিস্টার সুমনের সভার কথা বলে: টঙ্গীবাড়ী ও লোহজং এলাকায় ব্যারিস্টার সুমনের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরও ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। খেলার ভুয়া আয়োজন: বালুচরের ডক্টর জসিম উদ্দিনের নাম ব্যবহার করে ছাত্র-ছাত্রীদের খেলাধুলার আয়োজনের কথা বলে আরও ৩০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। প্রশাসন ও ইউএনও-র নাম ভাঙ্গানো: রাজানগর থানার পুলিশ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ইউএনও (TNO)-র নাম ব্যবহার করে ভাউচার ও ভুয়া দাওয়াতকার্ড দেখিয়ে একাধিক দফায় লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
মোস্তফার বিরুদ্ধে কেবল প্রতারণাই নয়, বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি ও জালিয়াতির একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী শাহ জালালের বাসা থেকে একটি মূল্যবান আইফোন (iPhone), নারায়ণগঞ্জের বক্তারচরের এক গৃহস্থের মোবাইল ফোন এবং কেরানীগঞ্জের শাহজাহান বাদশার বাড়ি থেকে ডিজিটাল ক্যামেরা চুরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নিজ গ্রামের মসজিদের ইমামের ঘরের ট্রাঙ্ক চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই মোস্তফার বিরুদ্ধে। একাধিক সাধারণ মানুষকে বিদেশে পাঠানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে। অলৌকিক বা গোপন বস্তু অনুসন্ধানের ভুয়া নাটক সাজিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। সাংবাদিকতার নৈতিকতা চরমভাবে লঙ্ঘন করে এক পক্ষের গোপন তথ্য বা বক্তব্য অন্য পক্ষের কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করা তার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোস্তফা ডিবি পুলিশ পিটিয়ে আসামি ছিনতাই মামলাসহ অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলার এজাহারনামীয় আসামি। এছাড়া সে নিয়মিত মাদক (গাঁজা) সেবনে অভ্যস্ত এবং এলাকায় নানা অপকর্মের সাথে জড়িত।ভুক্তভোগী শাহ জালাল যখন মোস্তফাকে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দেন এবং আর্থিক লেনদেন বন্ধ করেন, তখন থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হয়। পরবর্তীতে শাহ জালালের পক্ষে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ রোমান হাওলাদার-এর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয় মোস্তফা। সাংবাদিক রোমান হাওলাদারকে 'মাদকসেবী' সাজিয়ে একটি স্পর্শকাতর ভিডিও তৈরি করে 'ধলেশ্বরী টিভি' নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়।
শাহ জালালের বাসা থেকে আইফোন চুরির ঘটনায় কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার শুনানি বর্তমানে চলমান। পাশাপাশি ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোহাম্মদ রোমান হাওলাদার বাদী হয়ে মোস্তফাকে প্রধান এজাহারনামীয় আসামি এবং আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে মোস্তফার বানোয়াট ও ভিত্তিহীন প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ এবং তার কঠোর শাস্তির দাবিতে গত শুক্রবার সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার কয়েকশো মানুষ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি—সাংবাদিকতা ও পুলিশ প্রশাসনের সুনাম ক্ষুণ্নকারী, অশিক্ষিত এই চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও ভুয়া সাংবাদিক মোস্তফাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম