প্রিন্ট এর তারিখ: September 23, 2026, 10:44 pm || প্রকাশের তারিখ: September 23, 2026, 9:03 pm
চট্টগ্রামে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন হালিশহর, শেরশাহ ও ফিরোজশাহ আবাসিক এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষায় ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। আবাসিক প্লটে অনুমতিবিহীন বাণিজ্যিক কার্যক্রম, অবৈধ দখল, বকেয়া ভাড়া ও কিস্তি আদায় এবং পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদে মাঠে নেমেছে কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে সঙ্গে নিয়ে আকবরশাহ, হালিশহর ও শেরশাহ এলাকায় পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ১৮০ দিনের বনায়ন কর্মসূচির আওতায় নতুন বৃক্ষরোপণের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, রসোনা পাহাড়, রাউজান, নোয়াখালী প্রকল্প ও অফিস ক্যাম্পাসে ইতোমধ্যে বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীন বলেন, সরকারি হাউজিং এস্টেটের আবাসিক প্লটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। তবুও অনেক বরাদ্দগ্রহীতা অনুমতি ছাড়াই দোকান, শোরুম ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন, যা লিজের শর্তের পরিপন্থী। এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রথমে সংশ্লিষ্ট সেবা স্থগিত, পরে নোটিশ প্রদান এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হচ্ছে। তিনি জানান, অনেকেই নোটিশ পাওয়ার পর অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করেছেন। অন্যদিকে বৈধ অনুমতি নিয়ে পরিচালিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বর্তমানে কাঠাপ্রতি ৩৫ লাখ টাকা হারে ফি আদায় করা হচ্ছে।
অবৈধ দখল ও বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সমন্বয়হীনতাকে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে কর্মকর্তারা বলেন, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের একার পক্ষে এ সমস্যা মোকাবিলা সম্ভব নয়। বিভিন্ন সংস্থা জমির শ্রেণি যাচাই ছাড়াই বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ দিচ্ছে এবং সিটি করপোরেশন আবাসিক এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করছে। এ অবস্থায় সিডিএ, সিটি করপোরেশন ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সমন্বিত অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী।তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করলে এবং সেবাগ্রহীতারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে অবৈধ দখল ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
সরকারি জমি উদ্ধার কার্যক্রম সম্পর্কে নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ৫৫ একর জমি গেজেটভুক্ত করা হয়েছে এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ভূমিদস্যু ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ১৯৯৯ সালের ভুয়া বরাদ্দপত্র, খণ্ড প্লট, অধিগ্রহণকৃত জমি এবং বিকল্প প্লট বরাদ্দের নামে একটি অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সেবাগ্রহীতাদের দালালের পরিবর্তে কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে সরাসরি সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।কৈবল্যধাম প্রকল্পে ভুয়া, দ্বৈত ও একাধিক প্লট বরাদ্দের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, অতীতের বিভিন্ন অনিয়মের তদন্তে একই প্লটের একাধিক দাবিদার, ভুয়া বরাদ্দ এবং তথ্যগত অসঙ্গতির ঘটনা পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে প্রমাণ মিললেই নোটিশ প্রদান, জবাব গ্রহণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তবে বর্তমান মন্ত্রণালয় ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।