প্রিন্ট এর তারিখ: September 26, 2026, 10:14 pm || প্রকাশের তারিখ: September 26, 2026, 7:18 pm
রুহিয়ায় দোকানদারের পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগে ৭ বিঘা ধানক্ষেত ধ্বংসের মুখে
রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় কীটনাশক বিক্রেতা ও বেসরকারি একটি পেস্টিসাইড কোম্পানির কর্মীর পরামর্শে ক্ষেতে ওষুধ প্রয়োগ করে ৭ বিঘা জমির ধান হারানোর উপক্রম হয়েছে তৈয়ব আলী নামে এক কৃষকের । সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে পুরো ক্ষেতের ধান লাল-ধূসর হয়ে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুহিয়া ইউনিয়নের মধুপুর কাকলী স্কুলসংলগ্ন এলাকার আনোয়ার মুন্সীর ছেলে তৈয়ব আলী মধুপুর ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক বাবুর কাছ থেকে ৭ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ধানের আবাদ করেন। সম্প্রতি ধানের রোগবালাই রোধে পরামর্শের জন্য তিনি রুহিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে কালীতলা বাজারের ‘হবিবর ট্রেডার্স’ এর স্বত্বাধিকারী হবিবরের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ রয়েছে, হবিবর ‘মিম প্লেক্স এগ্রো কোম্পানি লিমিটেড’ এর এক প্রতিনিধিকে দিয়ে ক্ষেত পরিদর্শন করান এবং তাঁরই পরামর্শে কৃষককে সেতারা, এমিস্কোর, কোটান ও ভ্যালেন্ট টেক লিঃ-এর লুপিন প্লাস নামক কীটনাশক মিশ্রণ স্প্রে করার পরমর্শ দেন। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তৈয়ব আলী ওই কীটনাশক স্প্রে করার পরদিন থেকেই পুরো ক্ষেতের ধান লাল ও ধূসর রঙ ধারণ করে পচতে শুরু করে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তৈয়ব আলী বলেন, কৃষি কর্মকর্তাকে সময়মতো না পেয়ে বাধ্য হয়ে দোকানদার ও কোম্পানির লোকজনের কথায় ওষুধ দিয়েছিলাম। লিজ নেওয়া ৭ বিঘা জমির ধান এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমি এখন নিঃস্ব। পরিবার নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হবিবর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হবিবর বলেন, এই ওষুধ অন্য কৃষকদেরও দেওয়া হয়েছে, তবে তাঁদের কোনো অভিযোগ আসেনি। যেহেতু তৈয়ব আলীর ক্ষেতে ক্ষতি হয়েছে, তাই একজন কৃষিবিদ এনে ওষুধ পরিদর্শনের মাধ্যমে তাঁকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। এই বিষয়ে রুহিয়া ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জুয়েল ইসলাম উক্ত ক্ষেত পরিদর্শনপূর্বক বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে এই ধানক্ষেতটিতে একসাথে কয়েক প্রকার কীটনাশক সংমিশ্রণে দুপুর সময়ে স্প্রে করার ফলে এমনটি হতে পারে। আমরা এই ধানক্ষেত টি ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখেছি। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর করা হলে রুহিয়া উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কৃষি কর্মকর্তা নাসিরুল আলম জানান, তিনি দ্রুতই সরজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত পরিদর্শন করবেন এবং কৃষককে সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এদিকে স্থানীয় কৃষক শাহা আলম ও এনামুল হক (খাটাস) ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পাওয়া যায় না। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক ও সরকারি পরামর্শ সেবা সচল থাকলে কৃষকদের অদক্ষ দোকানদার বা কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের ওপর নির্ভর করতে হতো না এবং এমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না।