প্রিন্ট এর তারিখ: September 28, 2026, 9:27 pm || প্রকাশের তারিখ: September 28, 2026, 8:00 pm
সিজারে ভাঙল নবজাতকের হাত, মিথ্যা তথ্যে স্বজনদের বিভ্রান্তির অভিযোগ
নাঈম বিশ্বাস, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ার ট্রমা সেন্টারে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় এক নবজাতকের ডান হাতের দুটি স্থানে হাড় ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নাজনীন আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, দুর্ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শিশুটির হার্টে সমস্যা হয়েছে—এমন অসত্য তথ্য দিয়ে স্বজনদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এইচ এস কল্লোলের বিরুদ্ধেও।ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে। স্বজনরা জানান, রাত ১০টায় অস্ত্রোপচার করার কথা থাকলেও তা শুরু হয় রাত সাড়ে ১২টায়। অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে পর্যাপ্ত অবশকরণ (অ্যানেসথেশিয়া) ছাড়াই অস্ত্রোপচার শুরু করায় তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠেন প্রসূতি। পরবর্তীতে অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞ এসে প্রসূতিকে অবশ করার পর পুনরায় সিজার শুরু করা হয়।স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচারের একপর্যায়ে নবজাতকের হাত বের হয়ে আসলে ডা. নাজনীন কিছুটা উদগ্রীব হয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে অস্ত্রোপচার শেষ হলেও নবজাতকের হাত ভাঙার বিষয়টি স্বজনদের কাছে পুরোপুরি গোপন রাখা হয়। উল্টো শিশুটির হার্টে জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে তড়িঘড়ি করে রাজশাহীতে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন ডা. কল্লোল।পরবর্তীতে শিশুটিকে রাজশাহীর সিডিএম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকদের পরীক্ষায় হার্টের কোনো ত্রুটি ধরা পড়েনি। বরং সিজারের সময় নবজাতকের ডান হাতের দুটি হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।ক্ষোভ প্রকাশ করে শিশুটির মামা বলেন, "চিকিৎসায় ভুল হতেই পারে, কিন্তু সত্য গোপন করে অহেতুক হার্টের রোগের নাটক সাজিয়ে আমাদের ভুল চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হলো কেন? আমরা এই প্রতারণা ও চরম অবহেলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সঠিক বিচার চাই।"বর্তমানে নবজাতকটি রাজশাহীর সিডিএম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন। প্রসূতি ও তার পরিবারের দাবি, ঠিক কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটল এবং পরবর্তীতে কেন মিথ্যা তথ্যের আশ্রয় নেওয়া হলো—কর্তৃপক্ষকে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বিতর্কিত এই চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে এর আগেও চিকিৎসায় গাফিলতি ও নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. নাজনীন আক্তার জাহান ও ডা. এইচ এস কল্লোলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন কল রিসিভ করেননি।