প্রিন্ট এর তারিখ: October 3, 2026, 4:30 pm || প্রকাশের তারিখ: October 3, 2026, 3:01 pm
সাংবাদিক মেহেদী হাসানকে ফাঁসাতে আওয়ামী নেতার সাথে আবিদ হাসানের আঁতাত ফুঁসে উঠেছে সাংবাদিক মহল ও স্থানীয় জনতা
সাংবাদিক মেহেদী হাসানকে ফাঁসাতে আওয়ামী নেতার সাথে আবিদ হাসানের আঁতাত ফুঁসে উঠেছে সাংবাদিক মহল ও স্থানীয় জনতা
বিশেষ প্রতিনিধি,
ক্ষমতা, অর্থ ও রাজনৈতিক বহুরূপিতার অপব্যবহার করে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির বিতর্কিত আহ্বায়ক আবিদ হাসানের বিরুদ্ধে এবার এক চাঞ্চল্যকর চক্রান্তের অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় অনিয়ম ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার সাহসী তরুণ সাংবাদিক মোঃ মেহেদী হাসানকে স্তব্ধ করতে তিনি সাবেক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার সাথে গোপন আঁতাত করেছেন বলে প্রকাশ পেয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে আলম রনি (নূরি ইসলাম রনি)-কে আইনের হাতে সোপর্দ না করে বা গ্রেপ্তারে সহায়তা না করে, উল্টো তার সাথে গোপন লিয়াজোঁ ও যোগসাজশ গড়ে তুলেছেন আবিদ হাসান। উদ্দেশ্য—যেভাবেই হোক সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক মেহেদী হাসানকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ও দমন করা।
সাংবাদিক মেহেদী হাসানের পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে পুঁজি করে আওয়ামী লীগ নেতা রনির সাথে আঁতাত করে একটি মিথ্যা মামলা সাজানো হয়। সেই ষড়যন্ত্রমূলক মামলার ১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন আবিদ হাসান নিজেই। একজন চিহ্নিত আওয়ামী নেতার সাথে হাত মিলিয়ে সত্যের পক্ষে লড়াকু সাংবাদিককে এভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ঘটনায় পুরো শ্যামনগরের সাংবাদিক মহলে চরম ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে।
ঘটনার মূল রহস্য ও সত্যতা যাচাইয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে ইউপি সদস্য আবিদ হাসানের ব্যক্তিগত মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি চরম পেশাদারিত্বহীন আচরণ দেখান। সাংবাদিক মেহেদী হাসান নিজের পরিচয় দিয়ে অত্যন্ত শালীন ও ভদ্রভাবে প্রশ্ন করতে শুরু করা মাত্রই আবিদ হাসান তড়িঘড়ি করে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে সত্যতা জানতে ও বক্তব্য নিতে বারবার কল দেওয়া হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি। তার এই এড়িয়ে চলার মনোভাব অনৈতিক চক্রান্তের সত্যতাকেই আরও পোক্ত করে তুলেছে।
বিগত আওয়ামী শাসনামলে তৎকালীন এমপি-মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সরাসরি ওঠাবসা এবং দাওয়াত খাইয়ে নিজেকে ‘আওয়ামী লীগের মেম্বার’ হিসেবে জাহির করেছিলেন আবিদ হাসান। রাজনৈতিক ডিগবাজিতে ওস্তাদ এই ব্যক্তি দলের দুঃসময়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশে না থাকলেও, পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের টাকা ও লিয়াজোঁর মাধ্যমে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেন। পদ পাওয়ার পর থেকেই তিনি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চণ্ডীপুর খাসকাটা এলাকায় কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি, মাছের ঘের ও জমি দখলের রাজত্ব কায়েম করেছেন।
আবিদ হাসানের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস দীর্ঘ। ২০১৯ সালে ‘দুর্বার যুব সংঘ’ ক্লাবের সভাপতি পদে থেকে গ্রাহকদের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি, যা নিয়ে ডিবিতে মামলা হয়। এছাড়া মুন্সিগঞ্জের ‘আকাশনীলা ইকো পার্কে’ নারীসহ ধরা পড়ে মাফ চাওয়া এবং সম্প্রতি পরকীয়া কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ঘটনা তার চরম নৈতিক অবক্ষয় প্রমাণ করে।
আওয়ামী লীগের দোসরদের সাথে আঁতাত করে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক মেহেদী হাসানকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চক্রান্ত, পরসম্পদ দখল ও সীমাহীন চাঁদাবাজির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষ অবিলম্বে বহুরূপী আবিদ হাসানকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাকে বিএনপির দলীয় পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।