প্রিন্ট এর তারিখ: October 3, 2026, 11:23 pm || প্রকাশের তারিখ: October 3, 2026, 9:43 pm
সুন্দরবনে কয়লাবাহী জাহাজের ধাক্কায় জেলের মৃত্যু
উপজেলা প্রতিনিধি
চাঁদপাই রেঞ্জে নিখোঁজের এক দিন পর মোস্তফা মাঝির মরদেহ উদ্ধার;
সুন্দরবনের নদীতে কয়লাবাহী লাইটার জাহাজের ধাক্কায় নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর মোস্তফা মাঝি নামের এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের চরাপুটিয়া ও ভদ্রা নদীর মোহনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার দুপুরে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় সুন্দরবনের নৌপথে ছোট নৌযানের নিরাপত্তা এবং বড় বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নিহত মোস্তফা পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শয়না গ্রামের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা শুকুর আমিন ও সানাউল্লাহ সানি সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পান।
জেলেদের ভাষ্য, শুক্রবার দুপুরে চাওলা বগীর মুখ এলাকায় একটি কয়লাবাহী লাইটার জাহাজের ধাক্কায় তাঁদের নৌকাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে মোস্তফা নদীতে ছিটকে পড়ে নিখোঁজ হন। ঘটনার পর নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তাঁর সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেন। পরদিন দুপুরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া জেলেদের অভিযোগ, লাইটার জাহাজটি দ্রুতগতিতে চলছিল। তাঁদের দাবি, সংঘর্ষের পর জাহাজটি না থেমে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে জাহাজটির পরিচয় ও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
চাঁদপাই নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোক্তারুজ্জামান বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী নৌযান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সুন্দরবনের নদীপথে বড় বাণিজ্যিক নৌযানের পাশাপাশি জেলে ও স্থানীয় মানুষের ছোট নৌকা চলাচল করে। ফলে নৌযানের গতি, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং সতর্কতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। জেলেদের অভিযোগ, বড় জাহাজ চলাচলের সময় ছোট নৌযানগুলো ঝুঁকিতে পড়ে। বিশেষ করে সংকীর্ণ নদীপথ ও মোহনা এলাকায় বড় নৌযানের চলাচল নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে তাঁরা প্রায়ই বড় নৌযানের মুখোমুখি হন। এসব নৌযানের গতিবিধি ও চলাচলের ওপর কার্যকর নজরদারি না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাঁদের দাবি, সুন্দরবনের নৌপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের গতি ও রুট নিয়মিত তদারক করা এবং দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায়ী নৌযান শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মোস্তফা মাঝির মৃত্যুর ঘটনায় তাই শুধু একটি পরিবারের ওপর নেমে আসা শোক নয়, সুন্দরবনের নৌপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সামনে এসেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, জাহাজটির পরিচয় এবং নৌযান পরিচালনায় কোনো নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ও ব্যস্ত নৌপথে বড় ও ছোট নৌযানের চলাচল সমন্বয় করা জরুরি। নৌযানের গতিবিধি নজরদারির পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত শনাক্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।