দ্বিগুণ লাভের ফাঁদে কোটি টাকা
নেছারাবাদে দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমানত সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগ, লাপাত্তা ফরিদ
স্টাফ রিপোর্টার
দ্বিগুণ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আমানত সংগ্রহের পর তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে
পিরোজপুরের নেছারাবাদে। ‘পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ ও ‘সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অরগানাইজেশন (এসডিও)’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান খুলে এসব টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। মেয়াদ শেষে মুনাফা তো দূরের কথা, অনেক গ্রাহক মূল টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না। টাকা চাইতে গেলে প্রতিষ্ঠানের লোকজনের মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এদিকে অভিযোগের মূল ব্যক্তি ফরিদ হোসেনকে তার কার্যালয়ে পাওয়া যাচ্ছে না; ফোন করেও মিলছে না তার বক্তব্য।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এককালীন, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে আমানত সংগ্রহ করা হতো। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে দ্বিগুণ টাকা দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষকে এসব প্রতিষ্ঠানে টাকা জমাতে উৎসাহিত করা হয়। শুরুতে নিয়মিত লেনদেন ও মুনাফা দেওয়ার মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করা হলেও পরবর্তী সময়ে মেয়াদ পূর্ণ হওয়া আমানত ফেরত দেওয়া নিয়ে শুরু হয় টালবাহানা। একাধিক গ্রাহক জানান, তাদের সঞ্চয়, ব্যবসার পুঁজি ও ধার করা টাকা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানে জমা রেখেছেন। এখন মেয়াদ শেষ হলেও টাকা ফেরত না পাওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। কেউ কেউ টাকা ফেরতের জন্য প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।
চেক নিয়ে ‘নতুন কৌশল’
প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে চেক নিয়ে প্রতারণারও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন গ্রাহক। তাদের দাবি, একজন গ্রাহকের নামে থাকা ডিসঅনার চেক ব্যবহার করে অন্য গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে মামলার ভয় দেখিয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের কয়েকজন বলেন, নিজেদের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে উল্টো মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। এতে অনেক গ্রাহক আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
আমানতের টাকায় জমি কেনার অভিযোগ
সমবায় সমিতির সাবেক এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা আমানতের টাকা দিয়ে ফরিদ হোসেন নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি কিনেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দলিল বা নথি পাওয়া যায়নি। সমাজসেবা অফিসের দায় নেই
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা সমাজসেবা অফিস জানায়, এ ধরনের আমানত গ্রহণের কার্যক্রম নিয়মবহির্ভূত। ‘পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ সমাজসেবা বিভাগের আওতাভুক্ত নয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক কার্যক্রমের কোনো দায়ভারও সমাজসেবা অফিস নেবে না।
বক্তব্য মেলেনি ফরিদের
অভিযোগের বিষয়ে ফরিদ হোসেনের বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে ফরিদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করবেন।
এদিকে টাকা ফেরত না পাওয়ায় ভুক্তভোগীরা তাদের আমানত উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
জানিয়েছেন।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম