প্রিন্ট এর তারিখ: October 5, 2026, 12:55 am || প্রকাশের তারিখ: October 4, 2026, 10:49 pm
দুর্গাপূজা ঘিরে দাউদকান্দিতে কর্মচঞ্চল প্রতিমা তৈরির কারখানা
(কুমিল্লা) প্রতিনিধি
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বাঁশ-খড় ও মাটির প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের রূপ দিচ্ছেন শিল্পীরা
দুর্গাপূজা ঘিরে দাউদকান্দিতে কর্মচঞ্চল প্রতিমা তৈরির কারখানা
শারদীয় দুর্গাপূজার আর মাত্র ১২ দিন বাকি। ২০২৬ সালের বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর। উৎসবকে সামনে রেখে বরগুনায় শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পূজামণ্ডপ সাজানো, প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা।
কুমিল্লা দাউদকান্দির বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা তৈরির কারখানা ও কর্মশালায় এখন চলছে দিন-রাত কাজ। কোথাও বাঁশ ও খড়ের কাঠামোর ওপর মাটির প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে, কোথাও প্রতিমার শরীরের সূক্ষ্ম গঠন ঠিক করা হচ্ছে। আবার কোনো কোনো কারখানায় চলছে রং, চোখ আঁকা, চুলের সাজ, পোশাক ও অলংকার তৈরির কাজ।
প্রতিমা তৈরির শুরুতে বাঁশ, কাঠ ও খড় দিয়ে তৈরি করা হয় মূল কাঠামো। এরপর কয়েক ধাপে কাদামাটি দিয়ে দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের প্রতিমার অবয়ব গড়ে তোলা হয়। মাটি শুকিয়ে গেলে শুরু হয় মুখাবয়ব ও শরীরের বিভিন্ন অংশের সূক্ষ্ম কাজ। সবশেষে রং, পোশাক, অলংকার ও অন্যান্য সাজসজ্জার মাধ্যমে প্রতিমাকে পূজার উপযোগী করে তোলা হয়।
শিল্পীদের কাছে প্রতিমা তৈরির প্রতিটি ধাপই সময় ও দক্ষতাসাপেক্ষ। বিশেষ করে পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসে, ততই বেড়ে যায় কাজের চাপ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা সম্পন্ন করতে অনেক শিল্পীকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিমার মুখাবয়ব, চোখের দৃষ্টি, হাতের ভঙ্গি ও সাজসজ্জায় নান্দনিকতা ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন হয় অভিজ্ঞতা ও নিপুণতার।
দেশের অন্যান্য এলাকার মতো দাউদকান্দির দুর্গাপূজাকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে প্রস্তুতি বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমতলীতে শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন নিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতিমূলক সভাও হয়েছে।
এদিকে সারা দেশে এবার ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে ৩০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, পূজা উদযাপনকে কেন্দ্র করে জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা বিভিন্ন পূজামণ্ডপেও চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। কোথাও প্রতিমার কাঠামো প্রস্তুত, কোথাও চলছে রং ও সাজসজ্জার শেষ ধাপ। আয়োজকদের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।
প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততায় এখন কর্মচঞ্চল বরগুনার বিভিন্ন কারখানা। তাঁদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় বাঁশ, খড় ও মাটির কাঠামো ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ প্রতিমার রূপ পাচ্ছে। সামনে পূজার দিন যত এগিয়ে আসবে, ততই বাড়বে এই কর্মযজ্ঞের ব্যস্ততা।
২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা মহাষষ্ঠী থেকে শুরু হয়ে বিজয়া দশমীতে শেষ হবে। ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী।
সব মিলিয়ে দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে কুমিল্লা দাউদকান্দি তৈরি হচ্ছে উৎসবের আবহ। প্রতিমা শিল্পীদের নিরলস শ্রম ও সৃজনশীলতায় ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন।