আমাদের বাংলাদেশ
✉️ dailyamaderbd24@gmail.com f https://facebook.com/Dailyamaderbangladesh
প্রিন্ট এর তারিখ: October 5, 2026, 8:03 pm || প্রকাশের তারিখ: October 5, 2026, 6:45 pm
মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে নিজের ১৬ বছর বয়সী জন্মদাত্রী মেয়েকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় শহিদুল ইসলাম নামে এক বাবাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামি শহিদুল ইসলাম পলাতক (আদালতে অনুপস্থিত) ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের পাকালিয়া গ্রামের মৃত মকছেদ ফকিরের ছেলে।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি বালিয়াকান্দি থানায় স্বামী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন তার স্ত্রী।
এজাহারে বলা হয়, ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে গৃহবধূ নিজ শয়নকক্ষে ঘুম থেকে উঠে মেয়ের সঙ্গে স্বামী শহিদুলকে ধস্তাধস্তি করতে দেখেন। এ সময় তিনি বাধা দিলে শহিদুল তাকে ও মেয়েকে হুমকি-ধমকি ও মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে ভুক্তভোগী মেয়ে তার মাকে জানায়, প্রায় এক বছর ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে শহিদুল তাকে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণ করে আসছিল। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর রাত ১টার দিকে মায়ের অনুপস্থিতিতে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনাটি আত্মীয়-স্বজনকে জানানোর পর থানায় মামলা করা হলে আদালতে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কায়ছুন্নাহার সুরমার কাছে ভুক্তভোগী ১৬ বছরের কিশোরী ঘটনার বিবরণ দিয়ে জবানবন্দি প্রদান করে। পরবর্তীতে ডাক্তারি (মেডিকেল) পরীক্ষাতেও ধর্ষণের সত্যতা প্রমাণিত হয়।
মামলাটির প্রাথমিক তদন্ত করেন বালিয়াকান্দি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়ে এসআই আসাদুজ্জামান রিপন দায়িত্ব পান এবং তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। মামলায় মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট জাহিদ উদ্দিন মোল্লা রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিয়েছেন।"
তিনি আরও জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী জরিমানার ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে তা আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকে আদায় করা যাবে। এছাড়া আইনের ১৬ ধারার বিধান মতে, আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নিলামে বিক্রি করে অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য রাজবাড়ীর কালেক্টরকে (জেলা প্রশাসক) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা হলে তা ভুক্তভোগী মেয়েকে হস্তান্তর করা হবে।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ, মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২154- ০১৩১৮-৬৮০০৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম