প্রিন্ট এর তারিখ: October 5, 2026, 8:03 pm || প্রকাশের তারিখ: October 5, 2026, 6:53 pm
সিরাজপুর কালিরগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উদযাপন।
সিলেট প্রতিনিধি
“শিক্ষক জাতি গড়ার কারিগর”—এই মহান চেতনাকে সামনে রেখে সিলেটের জালালাবাদে সিরাজপুর কালিরগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ২টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি এবং আদর্শ নাগরিক গঠনে শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মাওলানা নুরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারী শিক্ষক লাভলী বেগম, সহকারী শিক্ষক শিমুল আহমদ ও মো. মামুন মিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আফাজ্জুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দশম শ্রেণির ছাত্রী মাছুমা আক্তার পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন। পরে দশম শ্রেণির ছাত্রী লিলি বেগম মনোমুগ্ধকর গজল পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন ও প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এছাড়া বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিশ্ব শিক্ষক দিবসের তাৎপর্য, শিক্ষকের মর্যাদা, শিক্ষার্থীদের জীবনে শিক্ষকের অবদান এবং আদর্শ মানুষ গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেয়। শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে প্রিয় শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি ফুটে ওঠে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান প্রদান করেন না; তিনি শিক্ষার্থীর চিন্তা, চরিত্র, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একটি শিক্ষিত, মানবিক ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম। তাই শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান, মর্যাদা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, “একজন ভালো শিক্ষক একটি শ্রেণিকক্ষ পরিবর্তন করতে পারেন, আর একজন আদর্শ শিক্ষক একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে পারেন।” শিক্ষার্থীদের আলোকিত, মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রয়াত সকল শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া শেষে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের হাতে অতিথিবৃন্দ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ আরও গভীর করার পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। আনন্দঘন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।