
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: কার্যাদেশ ছাড়াই কাজ শুরু করে দিয়েছেন উপজেলা যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতা। তাও আবার নিজের নামে নয়। এ কাজটি লটারীতে পেয়েছেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার শাম্মী কন্সট্রাকশন নামের একজন ঠিকাদার। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সেই সাথে টনক নড়েছে কার্যাদেশ ছাড়াই ও শাম্মী কন্সট্রাকশনকে না জানিয়ে কাজ করা সেই আলোচিত যুবলীগ নেতার।
ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায়র সারপুকুর ইউনিয়নের এইচবিবি করণের একটি প্রকল্পে।
এদিকে কার্যাদেশ প্রাপ্তি না হওয়া সত্বেও কে বা কাহারা অগ্রিম প্রকল্পের কাজটি শুরু করেছেন তাহার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অনুরোধ জানিয়েছে শাম্মী কন্সট্রাকশন।
রবিবার (৩ নভেম্বর) হাতীবান্ধার শাম্মী কন্সট্রাকশন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে জমা দিয়েছেন।
আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সুত্রে জানাগেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অধীনে -বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসুচির আওতায় ২০১৯-২০ অর্থ গ্রামীণ মাটির রাস্তা সমূহ টেকসই করণের লক্ষে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় আদিতমারীতে ৪টি প্যাকেজের বিপরীতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়।
> বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৪ সেপ্টেম্বর দরপত্র আহবান করা হয় আর দরপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ১৬ অক্টোবর। দরপত্র যাচা-বাচাই শেষে ২৮ অক্টোবর লটারী অনুষ্ঠিত হয়।
লটারী অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ৪ জন ঠিকাদার মনোনীত হন। এরা হলেনঃ প্যাকেজ নং-১ শাম্মী কন্সট্রাকশন,হাতীবান্ধা,লালমনি
লটারীর পর পরই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ঠিকাদারোর নাম চুড়ান্তকরণের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এরপর ঢাকা থেকে চুড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চুক্তি করণের জন্য নোটিফিকেশন এ্যাওয়ার্ড পাঠানো হয়ে থাকে। এরপর নির্বাচিত ঠিকাদারগণের সাথে চুক্তি সম্পাদন হওয়ার পর অফিস থেকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কিন্তু এখনও ঢাকা থেকে চুড়ান্ত ভাবে ঠিকাদারে তালিকা অত্র অফিসে পাঠানো হয়নি বলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম দাবী করেন।
ঠিকাদার চুড়ান্তকরণ ও কার্যাদেশ না হতেই উপজেলা যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতার মদদে ৪ নং প্যাকেজের এক কিলোমিটার রাস্তার এইচবিবি করণের কাজটি শুরু করেছেন। কাজ শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার শাম্মী কন্সট্রাকশন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকেও জানাননি তারা।
শনিবার বিকালে উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের জয়নালের বাড়ী হতে জজ মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত এইচবিবি করনের রাস্তাটি ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় শেষ পর্যায়ে রাস্তাটি থেকে মাটি সরানো হয়েছে। গত দুদিনে স্কেলেটার মেশিন দিয়ে রাস্তাটি থেকে মাটি সরিয়েছেন শাসকদলের নেতারা।
শাম্মী কন্সট্রকশনের হাসান আলী মোবাইল ফোনে জানান, লটারীতে কাজটি পেয়েছি ঠিকই কিন্তু অফিস থেকে এখনও চিঠি দিয়ে জানানো হয়নি। তিনি আরো জানান, আমাদের সাথে কথা না বলে কে বা কাহারা এইচবিবি করণের কাজ শুরু করেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উপজেলা যুবলীগের প্রভাবশালী সেই নেতা শনিবার রাতে (২ নভেম্বর) এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন রাস্তা থেকে মাটি অপসারণের কাজ শেষ পর্যায়ে। কার্যাদেশ কি অফিস দিয়েছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাকা দিলেতো চুক্তি হবে। এখনও চুক্তি হয়নি বলে তিনি স্বীকারও করেছেন। যা সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া তিনি সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য সংবাদকর্মীকে অনৈতিক প্রস্তাবও দেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুল ইসলাম জানান, কার্যাদেশতো দূরের কথা, এখনও ঢাকা থেকে ঠিকাদারের চুড়ান্ত তালিকা পাঠানো হয়নি। লটারীতে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ঠিকাদারের কাছ থেকে তিনি বিষয়টি শুনেছেন বলে দাবী করেন।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন জানান, শাম্মী কন্সট্রাকশনের লিখিত আবেদনের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম