শহিদুল ইসলাম সাগর সাভার : ফেনীর নুসরাত হত্যার ঘটনার রায় ঘোষনার এক সাপ্তাহ পর রাজধানী ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার ঘোষবাগ এলাকায় মাজীদুন নিসা মহিলা মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে ওই মাদ্রাসা থেকে ধর্ষক অধ্যক্ষকে আটক করেন পুলিশ। অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোসলেম উদ্দিন (৫০) শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ীর বাসিন্দা। ২০০৮ সাল থেকে অত্র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসাবে রয়েছেন।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, এই ঘটনার পূর্বেও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে ছিলো। স্থানীয়রা শালিসের মাধ্যমে ঘটনার সঠিক বিচার না করায় পুনরায় সে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটিয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে জামাল উদ্দিন, আরিফ ও হালিম অতীতের ঘটনাগুলোর শালিস করেছিলেন। অত্র প্রতিষ্ঠানটিতে মহিলা শিক্ষার্থীদের দেখবাল করতেন অভিযুক্ত অধ্যক্ষের স্ত্রী। এঘটনার পর থেকে অধ্যক্ষের স্ত্রীও গাঁ ঢাকা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
ধর্ষিতা জানান,গত শুক্রবার সকালে তাকে অধ্যক্ষের বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। এসময় তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ তাকে ধর্ষন করেছে। ধরনের বিষয়টি কাউকে জানাতে বারন করে এবং পরিবারসহ আশপাশের লোকজনকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। গতকাল তার শরীর অসুস্থ হলে বিষয়টি তার মায়ের কাছে খুলে বলে। এরপর তার মা মেয়ে ধর্ষনের বিচার দাবী করলে অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিকট জানা-জানি হয়। ধর্ষিতার বাবা স্থানীয় একটি মসজিদের ঈমামতি করছন ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মেয়েদের সুশিক্ষা গ্রহনের জন্য আমরা মাদ্রাসায় দিয়েছিলাম। একজন ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত আলেমের পক্ষে শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে। অধ্যক্ষ আটকের পরে অভিভাবকরা তাদের মেয়েদের মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যায়।
বাড়ীর মালিক জামাল উদ্দিন বলেন, আমার মায়ের নামে ৫ শতাংশ জমিতে টিনসেড ঘরে প্রায় শতাধিক মহিলা শিক্ষার্থীকে নিয়ে ২০০৮ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। তার মতা মাজীদুন নিসা নামেই নামকরণ করা হয়েছে মাদ্রাসাটির। বিভিন্ন সময় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ থাকার পরও কেন তাকে রাখা হয়েছে এমন প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারেননি তিনি।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ষষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থী ধর্ষনের অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে স্থানীয়রা আটক করে থানায় জানালে ঘটনাস্থল থেকে অধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনকে আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে। এসময় কয়েক শতাধিক এলাকাবাসী জড়ো হয়ে ধর্ষকের বিচার দাবীতে মিছিল করেছে। ধর্ষিতা শিক্ষার্থী ধর্ষনের ঘটনার কথা পুলিশের নিকট বলেছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ দায়ে করা হয়েছে। ধর্ষিতার শারীরিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে প্রেরন করা হয়েছে। বুধবার সকাল ধর্ষক অধ্যক্ষকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সময় চেয়ে আদালতে প্রেরন করা হবে।
উল্লেখ্য, ধর্ষনের দায়ে আটক মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পূর্বেও নাশকতার একটি মামলায় আটক হয়ে দেড় মাস জেলহাজতে ছিলেন।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম