
এস,এম সুলতান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।। এক সময় মৃৎ শিল্পীদের দিনকাল ভালই চলত কিন্তু কালের পরিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে এসব শিল্প। ফলে সংসার চালাতে এসব শিল্পের সাথে জড়িত প্রায় ২৭টি পরিবার তাদের বাপ-দাদার পেশাকে পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিনমজুরী আবার কেউবা বেছে নিয়েছেন ভ্যানগাড়ী চালানোর মত কাজ। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী পালপাড়া গ্রামে সরেজমিনে বেরিয়ে এসেছে এমন চিত্র। কথা হয় দীর্ঘদিন যাবত এ পেশার সাথে জড়িত নরেন পাল (৪৩) ও মহেন্দ্র পালে (৪৮) এর সাথে। তারা জানান, পালপাড়ায় প্রায় ২৭টি পরিবারের বসবাস। এ পেশা বাপ-দাদার আমল থেকে চলে আসছে তাদের। এক সময় মাটির তৈরি পাট,চাড়ি,খেলনা ও হাড়ি পাতিলের কদর ছিল।
বাজারে চাহিদা থাকায় লাভবান হতেন তারা। কিন্তু কালের পরিবর্তনে এসব জিনিসের তেমন একটা চাহিদা না থাকায় পরিবর্তন করতে হচ্ছে এ পেশা। তাদের দাবি শুধুমাত্র পেশাকে আঁকড়ে ধরার জন্য পরিবারের মহিলাদের এ কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে। আর সংসার চালাতে পুরুষদের যেতে হচ্ছে অন্যের বাড়িতে শ্রমিকের কাজ করতে। আবার কেউ বা বেছে নিয়েছেন ভ্যানচালকের কাজ।
নরেন্দ্র পাল সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাই পুর্বের পেশা থেকে বেরিয়ে বেছে নিয়েছেন শ্রমিকের কাজ এমনটাই দাবি তার। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন শ্রমিকের কাজ করে ৩ শ টাকা রোজগার করেন আর পরিবারের সদস্যরা বাপদাদার পেশাকে ধরে রেখেছেন। তার দুই মেয়ের বড় মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনী আর ছোট মেয়ে ৫ম শ্রেনীতে পড়ালেখা করছেন।
কিন্তু তাদের ভাগ্যে জোটেনি উপবৃত্তি এমনটাই দাবি তাদের পরিবারের। মহেন্দ্র পাল দীর্ঘদিন যাবত মৃতশিল্পের সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি সংসারের খরচ জোগাতে বেছে নিয়েছেন ভ্যানচালকের কাজ। প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে ২৫০ থেকে ৩ শ টাকা আয় হয়। যা দিয়ে কোন রকম ৭ জনের সংসার চালাতে হয়। ৩ মেয়ে ও এক ছেলের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বড় ছেলে এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন আর ছোট মেয়ে এইচএসসিতে পড়ছেন। আর এক মেয়ে প্রতিবন্ধি। এদিকে ওই গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের দাবি এখন আর এ পেশায় দিন চলে না।
বিশেষ করে এসব শিল্প আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীল। আবার এসব মাটির তৈরি জিনিসের কদর কমে যাওযায় তারাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এ পেশা থেকে। বর্তমান সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সমাজ সেবা অধিদপ্তর কার্যক্রম শুরু করেছেন। তাদেরকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেছেন। ২৭টি পরিবারের মধ্যে ৭টি পরিবারের মাঝে এককালীন ২৩ হাজার টাকা করে সমাজ সেবা থেকে প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এ প্রকল্পে অন্তভুক্ত করা হবে বলে আদিতমারী উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা রওশন আলী মন্ডল দাবি করেন। দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালেকুজ্জামান প্রামানিক ছালেক জানান, সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনীর সকল কর্মসুচিতে পর্যায়ক্রমে সকলে অন্তভুক্ত করা হবে।
সম্পাদকীয়,বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৮/১, আরামবাগ,মতিঝিল-ঢাকা-১০০০
যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭১৩-৩৩২১৫৯- ০১৩১৮-৬৮০৩৮১
আমাদেরবাংলাদেশ. ডট কম