হাদিস মেনে কি করোনা মোকাবেলা সম্ভব?
- প্রকাশের সয়ম :
সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২০
-
১৬৪
বার দেখা হয়েছে

আমাদের শিক্ষা ছিল। আমরা গ্রহণ করতে পারিনি। কাজে লাগাতে পারিনি।
সাদিক হাসান শুভ।। চিকিৎসা বিজ্ঞান উন্নত হচ্ছে। নানা রকম যন্ত্র, তত্ত্ব উদ্ভাবন হচ্ছে। পৃথিবী যেকোন সময়ের চেয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এগিয়ে এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু বিজ্ঞান যখন ধর্মকে উপেক্ষা করে তখন তা খোড়া হয়ে যায়। ধর্ম বা মহা মনীষীরা যে কথা বলে গিয়েছেন তা অনেক ক্ষেত্রেই এখনো বেশ প্রভাব বিস্তার করে আছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ধর্ম এবং মহা মানবদের কথা গুলো অনুসরণ করা হয় অনেক ক্ষেত্রে। কিন্তু গত ডিসেম্বরে যে করোনা চীনে ছড়িয়ে গেলো তা মোকাবেলায় নবী (সাঃ) এর হাদিস অনুসরণ করা হয়নি। যদি চীন তিন মাসের জন্য লকড করে দেওয়া যেতো তাহলে এই মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০০ এ বেঁধে ফেলা যেতো। এত তত্ত্ব, এত জ্ঞান মানুষের আছে কিন্তু মোহাম্মদ (সাঃ) এর একটি হাদিস তারা মানলোনা। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে গোটা বিশ্বের ৭০০ কোটি মানুষকে।
নবীজীর হাদিসটি হলো “‘যদি তোমরা শুনতে পাও কোনো জনপদে প্লেগ বা অনুরূপ মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে তবে তোমরা তথায় গমন করবে না। আর যদি তোমরা যে জনপদে অবস্থান করছ তথায় তার প্রাদুর্ভাব ঘটে তবে তোমরা সেখান থেকে বের হবে না। (বুখারী, আস-সহীহ ৫/২১৬৩; মুসলিম, আস-সহীহ ৪/১৭৩৮, ১৭৩৯)”
চীন করেনি কিন্তু অন্যান্য দেশগুলো পদক্ষেপ নিতে পারতো। বাংলাদেশ যদি বিমান বন্দর বন্ধ করে দিতো তাহলে এটি আর আসতে পারতো না। স্থল এবং সমুদ্র বন্দর খোলা রাখা যেতো পণ্য পরিবহনের জন্য আর এসকল বন্দর দিয়ে যারা আসতো তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারিন্টাইনে রাখা গেলে প্রায় শতভাগ করোনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো। সেটা করা হয়নি লোকসানের কথা চিন্তা করে। কিন্তু এখন কী হচ্ছে। বিলিয়ন ডলারের অর্ডার বাতিল হয়ে গেছে, সারা দেশে মানুষ মারা যাচ্ছে, আতংকে সবাই অস্থির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। শুধু বিমান বন্দর বন্ধ করে দিলে যা লোকসান হতো তা বর্তমান লোকসানের তুলনায় কিছুই না।
আমাদের শিক্ষা ছিল। আমরা গ্রহণ করতে পারিনি। কাজে লাগাতে পারিনি। কারণ আমরা তথাকথিত দুনিয়ার জন্য এতটাই অন্ধ হয়ে গেছি যে ধর্মের শিক্ষা আমাদের চোখে লাগেনা। আমাদের কাজে লাগেনা।
এখনো সময় আছে মানুষ যদি যে যেখানে আছে সেখানেই থাকে তাহলে এর বিস্তার রোধ করা সম্ভব। নবীজীর হাদিস মানার কোন বিকল্প নাই। ধর্মই চূড়ান্ত ঠিকানা।
লেখকঃ সাদিক হাসান শুভ, প্রভাষক,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।
Please Share This Post in Your Social Media