সাভার থেকে মোঃ আরিফ মন্ডল:সাভারে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক ব্যবসায়ীর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার (২৭ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ ঘটিকায় সাভারের হেমায়েতপুরের চান্দুলিয়া এলাকায় ব্যবসায়ী মোঃ রেজাউল করিম (৪২) এর উপর কয়েকজন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী হামলা চালান।
তবে হামলার শিকার উক্ত ব্যবসায়ী এই হামলার জন্য তার সাবেক ব্যবসায়ীক অংশীদার ঢাকার আদাবরে বসবাসরত মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সাগর, পিতা মোঃ নজরুল ইসলাম কে দায়ী করেছেন।
এব্যাপারে গণমাধ্যমের কাছে মোঃ রেজাউল করিম জানান, সাভার মডেল থানাধীন হেমায়েতপুরে ‘রিনা প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি প্লাস্টিক কারখানা ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে বন্ধ অবস্থায় ছিলো।
৪ বছর আগে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সাগর অপর দুই ব্যক্তি মোঃ আসিফ রেজা শিশির ও মোঃ রুহুল আমিন কে নিয়ে তার বন্ধ প্লাস্টিক কারখানাটি তাদের তিনজনের পরিচালনায় চালু করার প্রস্তাব দেয়। এক্ষেত্রে মোঃ রেজাউল করিম কে শুধুমাত্র ব্যবসার ৪৫% প্রদান করবে এবং এছাড়া ক্ষতির দায়ভার তাকে নিতে হবে না এই মর্মে চুক্তি সম্পাদন করা হয়।
পরে ১৬ লাখ টাকার একটি কাজের অর্ডার এনে অর্ডারকৃত মালামাল প্রস্তুত হবার পর হঠাৎ করে কাজের অর্ডার প্রদানকারী কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবসায়িক দূরাবস্থার কথা উল্লেখ করে সমগ্র অর্ডারটি বাতিল করে। স্বাভাবিকভাবেই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সাগর সহ ওই তিন ব্যবসায়ীক অংশীদারগণ লোকসানের সম্মুখীন হন।
এই অবস্থায় তারা মোঃ রেজাউল করিমের সাথে সম্পাদিত চুক্তিপত্র লংঘন করে তাকে অন্যায়ভাবে তাদের লোকসানের অংশীদারিত্বও বহন করে তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য চাপ প্রদান সহ বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এতে করে সামাজিক মানমর্যাদা এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টি ভেবে মোঃ রেজাউল করিম
তাদের সাথে আলোচনায় বসে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ জরিমানা প্রদান করে ওখানেই বিষয়টির সমাপ্তি করেন। এসময় চুক্তিপত্রটিও সকলের সম্মতিক্রমে ওখানে বসেই পুড়িয়ে ফেলা হয়।
মোঃ রেজাউল করিম আরও জানান, এই ঘটনার অনেকদিন পরে তার সাবেক ব্যবসায়ীক পার্টনার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সাগর পুনরায় তার কাছে ৬ লাখ টাকা পাবে দাবী করে এবং গত ২ জুলাই, ২০১৯ ইং তারিখ সন্ধ্যায় নিজের মোবাইল (০১৭১২০৫৭২৬৮) নাম্বার থেকে মোঃ রেজাউল
করিম এর ০১৬৭৩৬৭৮৩১০ নাম্বারে ফোন করে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদান সহ আগামী ৭ দিনের ভিতরে তার চাহিদাকৃত ৬ লাখ টাকা পরিশোধ না করলে রেজাউল করিমকে তার পরিবারের সদস্যদের সহ মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে।
এই ঘটনা জানিয়ে তিনি সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন যার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক কামরুল হাসান। বিষয়টি তদন্তনাধীন চলা অবস্থায় গতকাল শনিবার (২৭ জুলাই) রাতে মোঃ রেজাউল করিমের চান্দুলিয়ার বাড়ি থেকে অজ্ঞাত কয়েকজন সন্ত্রাসী ডেকে বাড়ির নিচে নিয়ে আসেন।
এসময় তাদের সাথে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সাগর এর সাথে তার কথা বলিয়ে দেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে হঠাৎ তারা সবাই মিলে তাজে বেদম মারধর করে সারা শরীরে নীলা ফুলা জখম করে এবং এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। তবে জ্ঞান হারানোর আগে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে আগামীকাল (রবিবার) এর মধ্যে ৬ লাখ টাকা দিয়ে না দিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে এই মর্মে হুমকি প্রদান করে চলে যায়।
প্রসঙ্গত, সন্ত্রাসীদের ওই হামলার সম্পূর্ণ ঘটনা মোঃ রেজাউল করিম এর বাড়ির সম্মুখভাগের সিসি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছিলো যেই ফুটেজ এই প্রতিবেদক নিজে দেখেছেন।
মোঃ রেজাউল করিম গণমাধ্যমের দ্বারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, উপজেলা প্রশাসন এবং রাষ্ট্রের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট নিজের ও নিজ পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য তার উপর সন্ত্রাসী হামলার মূল নির্দেশদাতা সহ আক্রমনকারীদের বিচার চেয়েছেন।
এই বিষয়ে জানতে চেয়ে অভিযুক্ত মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সাগর এর মুঠোফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায় নাই।