ইকবাল হাসান, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি।। নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার নৌকার মাঝি কাইয়ুমকে হাত পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার ৫ দিনের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মূল আসামীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় খালিয়াজুড়ি থানা পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সীর নির্দেশনায় খালিয়াজুড়ি থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এ এস আই হরিপদ পাল ও এস আই কামরুজ্জামানের বিশেষ দক্ষতায় উপজেলার বিভিন্ন স্হানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
কাইয়ুম হত্যার মুল আসামী হল সৈয়দ নুর সাং সারলা, মোঃ আলামিন (৩০) সাং আমানীপুর, মোঃ শামীম(৩০) সাং আমানিপুর, আমীর হামজা সাং আমানিপুর ও কামাল হোসেন(৩৫)। পরে এ হত্যার মূল আসামী সৈয়দ নুর ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে মাঝি কাইয়ুমকে হাত পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করে।
মামলার ঘটনা বিবরনে জানা যায়, গত ৭ জুন মাঝি কাইয়ুম কৃষ্ণপুর হতে ইয়ারাবাজ বাজার, শাল্লার ৫০০/- টাকার জায়গায় ২০০০/- টাকা ভাড়া দিয়ে নিয়ে যায় ।
কাইয়ুম তার বড় ভাই মোবারককে মোবাইল ফোনে জানায় তার বাড়ি ফিরতে দেরি হবে। কাইয়ুমের বড় ভাই মোবারক রাত বারো টার পর থেকে তার মোবাইল ফোনে পায় না এবং কাইয়ুম নিখোঁজ হয়।
তখন কাইয়ুমের পরিবার থানায় না জানিয়েই কাইয়ুমকে খোঁজাখুঁজি করে, খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ১০ জুন বেলা ০২ টা ১৫ মিনিটে অফিসার ইনচার্জ খালিয়াজুরী এটিএম মাহমুদুল হক এর মোবাইল ফোনে জানায়, আদাউড়া সাকিন্থ বাইল্লার হাওরে একটি লাশ ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।
পরে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সনাক্ত করে যে, এই মৃত ব্যক্তিই কাইয়ুম এবং সুরৎহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করিয়া ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর আধুনিক হাসপাতাল প্রেরণ করে।
উক্ত ঘটনায় ১১ জুন কাইয়ুমের ভাই মোবারক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী মহোদয়ের নির্দেশক্রমে এ এস আই হরিপদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ কৌশল অবলম্বন করে যে ব্যাক্তি নৌকাটি ভাড়া নিয়েছিল তাকে আটক করে ।
পরবর্তীতে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে সে তার নিজের দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ঘটনার সাথে জড়িত সকলের তথ্যসহ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। উক্ত তথ্যমতে আরও চারজনকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
আসামী পাঁচ জনের একটি অপকর্ম ঢাকার জন্য/গোপন করার জন্য সহজ সরল নৌকার মাঝি কাইয়ুম কে নৃশংসভাবে মেরে হাত-পা বেঁধে মৃত্যু নিশ্চিত এর জন্য পানিতে ফেলে দেয়।