সৈয়দ মেহেদী হাসান।। রাজবাড়ীর পাংশাতে একজন পুলিশ সদস্যকে ভালোবেসে প্রাণ দিলো কলেজ ছাত্রী মোছাঃ ইতি আক্তার।এ ঘটনা ঘটেছে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার যশাই পারভেল্লাবাড়ীয়া গ্রামে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের মোঃ কোরবান আলীর ছেলে শাহাবুদ্দিন আহমেদ কিরণ, ভালোবাসতেন একই উপজেলার পারভেলাবাড়িয়া গ্রামের মোঃ ফজলু মন্ডলের মেয়ে মোছাঃ ইতি আক্তারকে তার ভালবাসার জালে ফাঁসিয়ে ঘোরাতে থাকে দিনের পর দিন, একাধিক বার ইতিকে বিয়ে করার কথা বলেছিলেন পুলিশ সদস্য শাহাবুদ্দিন।
একপর্যায়ে শাহাবুদ্দিন আহমেদ কিরণ ইতিকে বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দেন। ভালোবাসার মানুষের দেওয়া আঘাত সইতে না পেরে নিজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন কলেজছাত্রী ইতি আক্তার মৃত্যুর আগে একটি চিঠিও লিখেছিলেন ইতি। ইতি খাতুন পাংশা আইডিয়াল গালর্স কলেজে লেখাপড়া করতেন, তিনি এবছর এইচ এসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
ইতির বোন মুশির্দা জানান, গত ৬ আগষ্ট বিয়ের দাবী নিয়ে আমার বোন কিরনের বাড়ীতে যায় সেখানে কিরনের পরিবার আমার বোনকে অমানুষিক নির্যাতন করে মারধোর করে এক পর্যায়ে ইতি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতলে পাঠিয়ে দিয়েছিল। এরপর থেকেই আমার বোনটা সব সময় মন মরা হয়ে থাকত হটাৎ আমাদের চোখ ফাকি দিয়ে আমার বোন উড়না গলাই পেচিয়ে জীবন শেষ করার চেষ্ঠা করে পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে পাংশা হাসপাতে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ইতির ছোট চাচা লিটন বলেন, আমার ভাতিজির অনেক ভালো জায়গায় বিয়ে ঠিক হয়েছিল কিন্তু তা সম্ভব হয়নি পুলিশ সদস্য শাহাবুদ্দিনের জন্য, সে বারবার বিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে, আমার ভাতিজিকে বিয়ে করার কথা বলে প্রতারনা করতে গিয়েও সেখান থেকে পালিয়ে গিয়েছিল ওই ছেলে আমার এই আদরের ভাতিজিকে সে কুষ্টিয়া থেকেও মারধর করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। পুলিশের চাকুরী করায় নানা ভাবে আমার ভাতিজিকে হয়রানীর চেষ্টা করেছে ইতি মানষিক ও শারিরিক ভাবে হয়রানীর শিকার হয়ে এ পথ বেছে নিয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।
এ ব্যাপারে পুলিশ সদস্য শাহবুদ্দিন এর বাড়ীতে গিয়ে তার পিতা মাতাকে না পাওয়ায় তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সদস্য শাহবুদ্দিন অরফে কিরোন কুষ্টিয়া জেলায় ট্যাফিক পুলিশে কর্মরত রয়েছে বলে জানাগেছে।