ইমাম হোসেন নিজস্ব প্রতিবেদক ।। আশুলিয়ায় দুই কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বের মাঝে প্রাণ হারানো নিরপরাধ লিখনের হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন মাস পর কিশোর গ্যাংয়ের চারজন-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বুধবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান র্যাব-৪-এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক।
গতকাল মঙ্গলবার রাত্রে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে লিখন হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও কিশোর গ্যাং প্রধানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানার মৃত্যুতেগুড়ি গ্রামের শাহা আলীর ছেলে মো: রনি (১৯) টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার আবুল কালামের ছেলে রাকিব (১৮) মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার চরকাটারি গ্রামের জিলানী (১৮) ও একই থানার বাচামারা গ্রামের মো: সোহাগ। তারা সবাই আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করত।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর এই মামলায় আরো চারজন-কে গ্রেপ্তার করে আশুলিয়া পুলিশ। পরদিন আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় তারা। তারা হলো নীলফামারী জেলার সদর থানার চড়ইখোলা গ্রামের খায়রুল ইসলামের ছেলে মো: আদর ( ১৫) পাবনার সাঁথিয়া থানার ঘুঘুদহ গ্রামের মো: মোবারক হোসেনের ছেলে মো: হৃদয় হোসেন (১৭) একই জেলার আতাইকুলা থানার পুষ্ঠপাড়া গ্রামের মো: রতন মিয়ার ছেলে মো: আলফাজ হোসেন (১৭) ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানার গাড়াদহ গ্রামের আব্দুল আলীমের ছেলে মো: হাসান হোসেন (১৭)। নিহত লিখন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার অভয়নগর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। সে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় তার চাচার ফার্নিচারের দোকানে কাজ করত।
র্যাব-৪-এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক আরো জানান, ঘটনার পর থেকেই কাইচাবাড়ী গ্রুপের কিশোর গ্যাং লিডার রনিসহ অন্য আসামিরা দিনাজপুর,রংপুর, পটুয়াখালী,বরিশাল,ঝালকাঠি ও গাজীপুরে আত্মগোপনে ছিল।
এ সময় তারা কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করেনি। টাকা শেষ হয়ে গেলে তারা গোপনে আশুলিয়ায় এলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-৪। র্যাব জানায়,আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং মাদকের অপব্যবহারসহ নানা অপরাধে জড়িত কিশোর গ্যাং কালচারের প্রবণতা রয়েছে। সেখানে কাইচাবাড়ী গ্যাং এবং গোচারটেক ভাই বেরাদার গ্যাং নামে দুটি আলাদা কিশোর গ্যাং রয়েছে। যারা এলাকায় ইভ টিজিং,ছিনতাই,মাদক সেবন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে থাকে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি রনি কাইচাবাড়ী কিশোর গ্যাং গ্রুপের লিডার এবং তার দলে ১০ থেকে ১৫ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এদিকে গোচারটেক ভাই বেরাদার গ্রুপ নামের অন্য একটি কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য মেহেদী। ঘটনার কিছুদিন পূর্বে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোচারটেক ভাই বেরাদার গ্যাং গ্রুপের কয়েকজন সদস্য কাইচাবাড়ী গ্যাংয়ের সদস্য আদর নামের এক কিশোরকে মারধর করে।
বিষয়টি আদর কাইচাবাড়ী কিশোর গ্যাং প্রধান রনিকে জানালে তারা হামালার পরিকল্পনা করে। গত ৪ জুলাই সন্ধ্যায় গোচারারটেক ইস্টার্ন হাউজিং মাঠের পাশে লোহার রড ও ধারালো দেশি অস্ত্রসহ রনি তার সহযোগীদের নিয়ে মেহেদী-কে হামলা করে। এ সময় মেহেদী-কে মারধর করা হয়। একটু দূরে লিখন (১৮) মাঠে বসে মোবাইল ব্যবহার করছিল।
এ সময় তার পরিচিত মেহেদীকে মারধর করতে দেখে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেহেদীকে বাঁচানোর চেষ্টা করে।
এ সময় কাইচাবাড়ী কিশোর গ্যাং সদস্যরা মেহেদীর সাথে লিখনকেও এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে আসামিদের রডের আঘাতে লিখন মাটিতে পড়ে যায় এবং তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে হামলাকারীরা গুরুতর আহত লিখন এবং মেহেদীকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে লিখন-কে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং মেহেদীকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরদিন ৫ জুলাই দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিখন মারা যায়। উক্ত ঘটনায় লিখনের চাচা শরীফুল ইসলাম বাবু বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় রনি,এনায়েত সহ অজ্ঞাতনামা আরো বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
উক্ত বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নরুল ইসলাম বলেন,এই মামলায় মোট আটজন-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব থেকে গ্রেপ্তার চারজন-কে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের আগামীকাল আদালতে পাঠানো হবে।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/রাজু