মোঃ আরিফ মন্ডল বিশেষ প্রতিনিধি : সাভারে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি করার অভিযোগে তিন জনকে আটক করে জেলে প্রদান ও ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে হেমায়েতপুরের সুইচটেক্স এলাকায় বনফুল কোং লি: কারখানাসহ আরও ৪টি বেকারিতে অভিযান পরিচালনা করে এ জেল-জরিমানা করে র্যাব-৪ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত।
র্যাব জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ইসলাম বেকারি ও সেভেন স্টার বেকারির কর্তৃপক্ষগণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিমানের ও মেয়াদহীন খাবার তৈরি করে আসছিলো। পচা সিরা, ডিম, মেয়াদ ছাড়া ডালডা, তেল, ঘি ইত্যাদি দিয়ে বিভিন্ন প্রকার বিস্কুট, চানাচুর, কেকসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাজারজাত করে আসছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে র্যাব-৪ ওই কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে।
এদিন অভিযান পরিচালনা করে নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দিন অভিযুক্ত ইসলাম বেকারিকে নগদ ৫ লাখ টাকাসহ একজনকে ১৫ দিন ও অনন্য দুইজনকে তিনদিনের জেল প্রদান করেন। অন্যদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদনের দায়ে বনফুল কোং লি: কারখানার ম্যানেজার ইকবাল শরিফকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেন র্যাব-৪ এর ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দিন।
একই এলাকার সেভেন স্টার বেকারিকে তিন লাখ আশি হাজার টাকা জরিমানা করাসহ কারখানা কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের খাবার উৎপাদন থেকে বিরত থাকার জন্য সর্তকতা জারি করেন। এ সময় অভিযানে র্যাব-৪ এর (এএসপি) উনু মং সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও র্যাব-৪ ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশুলিয়া কাঠগড়া এলাকায় বিএসটিআই অনুমোদনহীন বি বাড়িয়া বেকারি ও ইসলামীয়া বেকারিতে অভিযান পরিচালনা করেন।
এসময় এ দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের এ ধরনের পণ্য তৈরী ও বাজারজাত করার অপরাধে বি বাড়িয়া বেকারি কর্তৃপক্ষকে এক লাখ টাকা ও ইসলামীয়া বেকারির মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান শেষে র্যাব-৪ এর (এএসপি) উনু মং বলেন, নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযানে বনফুলসহ অরও ৪টি বেকারীর পরিবেশ নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পাওয়ায় এগুলোকে ১৫ লাখ আশি হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, যেখানেই ভেজাল খাদ্য উৎপাদন করার প্রমাণ পাওয়া যাবে সেখানেই অভিযান পরিচালিত হবে, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।