বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় আদালতের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশ থাকা সত্ত্বেও বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত তিনজনের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফকিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভবনা গ্রামের বাসিন্দা বেবী সুলতানা।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে ভবনা গ্রামের বাসিন্দা মোজাফফর আলী শেখ (৫০), মোজাম্মেল আলী শেখ (৪৫), নুরছালিন শেখ (৪২)—তিনজনই মতলেব শেখের ছেলে; মাসুদ শেখ (৩০), পিতা মোজাম্মেল আলী শেখ; বিল্লাল শেখ (৩৫), পিতা খলিল শেখ; খলিল শেখ (৭০), পিতা বুজে শেখ; পাশের জাড়িয়া মাইটকুমড়া গ্রামের আলমগীর শেখ (৪৫), পিতা হোসেন শেখ এবং তাদের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারীর প্রয়াত স্বামী সাজ্জাদ শেখ প্রায় চার বছর আগে ভবনা মৌজায় নিজেদের বসতবাড়ির পাশের ৪৪ শতক জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে তারা জমিটি ভোগদখলে থাকলেও অভিযুক্তরা শুরু থেকেই জমিটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এর আগে আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হলে গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। অভিযোগকারীর দাবি, আদালতের নির্দেশের প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা জমির দখল নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ জুলাই সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে ওই জমিতে গিয়ে গাছ কাটতে শুরু করেন। খবর পেয়ে বেবী সুলতানা ও তার দুই ছেলে সাকিব শেখ (৩০) এবং সাহেদ শেখ (২০) ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং জমির মালিকানা দাবি করে পরদিন জমি দখলের হুমকি দেন।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা শাবল, লাঠি ও কাঠের বাতা দিয়ে বেবী সুলতানা এবং তার দুই ছেলেকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তিনজনই আহত হন। তাদের চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা খুন ও জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে বেবী সুলতানা ও সাহেদ শেখ প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। গুরুতর আহত সাকিব শেখকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগকারী বেবী সুলতানা বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিকে কেন্দ্র করে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ফকিরহাট মডেল থানায় আইনগত পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।