ধানি জমিকে মাদ্রাসা দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ
নাঈম বিশ্বাস,কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় কাগজের কলমে মাদ্রাসা দেখিয়ে টিআর (গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ) প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হাফিজুর রহমান জিহাদী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উন্নয়নকাজের নামে দুই দফায় চার লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো অবকাঠামোগত চিহ্ন মেলেনি—রয়েছে কেবল একটি ধানখেত ও সাইনবোর্ড।অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান জিহাদী কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মুফতি আমির হামজার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তিনি সদর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি ওয়াজ-নসিহত করেন।উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিআর প্রকল্পের আওতায় এমপি মুফতি আমির হামজার সুপারিশে কুষ্টিয়া পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের চৌড়হাস এলাকায় ‘আহসাবে সুফফা নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা’র মাটি ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত মে মাসে হাফিজুর রহমানকে সভাপতি করে গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের বাস্তবায়ন কমিটি।অনুসন্ধানে জানা যায়, কাজের কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি ছাড়াই প্রথম দফায় তুলে নেওয়া হয় দুই লাখ টাকা। প্রকল্প অফিস থেকে কাজের তাগিদ দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করে পরবর্তীতে বাকি দুই লাখ টাকার চেকও তুলে নেন হাফিজুর রহমান।সম্প্রতি চৌড়হাস কোল্ডস্টোরেজ-সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফসলি জমির আইলে একটি সাইনবোর্ড ঝুলছে—যাতে লেখা ‘আহসাবে সুফফা নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং-এর প্রস্তাবিত নির্ধারিত স্থান’। সাইনবোর্ডে সার্বিক তত্ত্বাবধানে এমপির নাম ও যোগাযোগের জন্য হাফিজুর রহমানের মুঠোফোন নম্বর দেওয়া রয়েছে। তবে সেখানে নিচু জমিতে পানি জমে থাকতে এবং ধানের আবাদ চলতে দেখা গেছে; মাটি ভরাট বা প্রাচীর নির্মাণের কোনো লক্ষণ ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই নামে কোনো কার্যকর মাদ্রাসার অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত নন।নিয়মানুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন ও ছবি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। তা সত্ত্বেও অতি সম্প্রতি একই প্রতিষ্ঠানের নামে পুনরায় সরকারি অর্থের আবেদন করা হলে উপজেলা প্রকল্প কার্যালয় তা নাকচ করে দেয়।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজুর রহমান জিহাদী বলেন, “আমির হামজা ভাইয়ের (এমপি) তত্ত্বাবধানে আমি কাজ করছি। কিছু কাজ হয়েছে, বাকি কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।”এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুণ অর রশিদ জানান, এমপি মহোদয়ের সুপারিশে প্রকল্পটির বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সরেজমিনে তদন্ত করে কাজ না হওয়ার সত্যতা পাওয়া গেলে- আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার সঙ্গে ফোনে ও বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।