লালমনিরহাট প্রতিনিধি।। মেয়ের বাড়ীতে এসেছেন বর পক্ষের লোকজন। চলছে বিয়ে ও খাওয়া দাওয়ার প্রস্তুতি। ঠিক সেই সময়ে মেয়ের বাড়ীতে হাজির হলেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। ইউএনওকে দেখে সকলে পালাতে পারলেও আটক হলেন বাল্য বিয়ের আয়োজক মেয়ের চাচা আব্দুল কুদ্দুস (৫৫) ও বর পক্ষের হাফিজুল ইসলাম (৪৫)। শেষে পন্ড হলো বাল্যবিয়ের আয়োজন।
শনিবার (৯ নভেম্বর) রাতে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে আব্দুল কুদ্দুসকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদন্ড ও হাফিজুল ইসলাামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন।
আব্দুল কুদ্দুস (৫৫) উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া ভাটাপাড়া গ্রামের মৃত শুকুর আকন্দের ছেলে আর হাফিজুল ইসলাম (৪৫) কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়নের ভনশর্মা গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
জানাগেছে, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া ভাটাপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ৯ম শ্রেনীতে পড়ুয়া স্কুল ছাত্রীর (১৪) সাথে বিয়ে ঠিক হয় কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ভানশর্মা গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের ছেলে আঙ্গুর হোসেন (২০) এর সাথে। আনুষ্ঠানিকভাবে বাল্য বিয়ের আয়োজন চলছিল এমন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে মেয়ের বাড়ীর অভিযান চালান ইউএনও। পরে জরিমানার অর্থ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দুজনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,রাতেই দুজনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।