মোহনপুর প্রতিনিধি।। রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়টি ১৯৬৪ সালে কেশরহটের প্রাণকেন্দ্রে স্থাপিত হয়। এখানকার শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬শতাধিক। নব্বই দশকে বিদ্যালয়টি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে মাধ্যমিক পরিক্ষার ফলাফলে মোহনপুরের শীর্ষ স্থানের সুনাম অর্জন করত। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৪ সালে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সেরা তালিকার ১৪তম স্থান অর্জন করেছিলেন এ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ওয়াহেদুল ইসলাম। সুনাম অর্জনের কিছু দিনের মধ্যে মারা যান বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন। এছাড়া অবসরে যান তৎকালিন প্রধান শিক্ষক আবদুল মজিদ মিঞা। কাছাকাছি সময়ে দুই জন দক্ষ প্রধান শিক্ষকের শূণ্যতায় ২০০৭ সালের দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ গ্রহন করেন বর্তমান প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। ২০০৯ সালে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেই নানা অনিয়ম, দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়দের সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করেই বিদ্যালয়ে দুর্নীতির জন্ম দিতে শুরু করেন। বাজার কেন্দ্রিক বিদ্যালয়ের রয়েছে কোটি কোটি টাকা আয়ের উৎস।
বিদ্যালয়ের রয়েছে বহুতল ব্যবসায়িক মার্কেটসহ প্রায় ৩৭ টি দোকানঘর। ব্যাংক লেনদেন ছাড়াই চালান আয়ব্যায়। এসব থেকে হাতিয়ে নেন নির্মাণ ব্যয় ও ভাড়ার টাকার অংশ বিশেষ। এতো সব আয়ের উৎস থাকলেও নেই চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন কাজ। মাঠ ভরাটের অভাবে সারা বছর পানিতে ডুবে থাকে শিক্ষার্থীদের একমাত্র খেলার মাঠ। সম্প্রতি স্থানীয় সাংসদ সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের নজরদারিতে মাঠ ভরাটের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। আরো অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম শুধু এ বিদ্যালয়ের দূর্নীতির সাথে জড়ি নন। তার নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা হয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন এই সেই প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামেরই স্ত্রী। পরবর্তীতে নানা সমস্যায় এ বিদ্যালয়টির পাঠ বন্ধ হয়ে যায়।
এবার স্বামী-স্ত্রী দুজন যোগসাজস করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ মৃত সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রেজিলুশেনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের জমিটি প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের নামে লিখে নেন। বিষয়টি জানা জানি হলে আদলতে মামলা দায়ের হলে গ্রেফতার হয়ে কারাবাসে যান স্বামী-দুজনেই। অবশেষে জমিটি ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে ফেরত দিয়ে মুক্তি পান তারা। তবুও দমেনি তার অনিয়ম দুর্নীতি প্রভাব। কেশরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবসায়িক বহুতল ভবন তৈরিতে অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে চলতি বছরের গত ৬ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ নেন স্থানীয়রা। মন্তব্য জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন আমি কেশরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের যথেষ্ঠ উন্নয়ন করেছি। যদি অনিয়ম দুর্নীতি করতাম তাহলে বিদ্যালয়ের নামে একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ হতো না। ২৭টি দোকানঘর নির্মাণ হতো না। একটি মহল আমার সুনাম ক্ষন্ন করতে এধরণের অভিযোগ করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে বিরুদ্ধাচারণ না করে উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।