নিজস্ব প্রতিবেদক।। সময়ের পরিক্রমায় প্রকৃতিতে নেমে এসেছে শীতের হাওয়া, এর সঙ্গে সঙ্গে অতিথি পাখিরা ভিড় করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) তে। পাখির সর্বত্র বিচরন ক্যাম্পাসকে করে তুলেছে আরও চঞ্চল ও প্রানবন্ত।
অন্যদিকে জলাশয়ের লাল শাপলার শোভা নিসর্গমন্ডিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য অঅরও বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুনে। অন্যান্য সময়ের মত এবার ক্যাম্পাসের পরিবেশ অনেকটা নিরব হলেও পাখিপ্রেমিদের ভিড়ে মুখোরিত জাবি ক্যাম্পাস। পাখির কলকাকলি, ঝাঁকে ঝাঁকে বিচরণ, জলকেলি আর খুনসুটি দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক পাখিপ্রেমীরা। ক্যাম্পাসের ছোট কিংবা বড় জলাশয়ের পাড়েই মিলছে পাখির ঝাঁক । হঠাৎ দল বেঁধে উড়তে থাকা আবার বিলের সৌন্দর্য কে আরও বাড়িয়ে দিতে ব্যস্ত ভিনদেশী এ পাখিগুলো।
কোনোটি আবার সাঁতার কাটছে আপন মনে। অদূরে লম্বা ঠোঁটওয়ালা শামুকভাঙা পাখি জলাশয় থেকে খুঁটে খুঁটে শামুক খাচ্ছে। পানকৌড়ি, দুগ্ধধবল বক জলাশয়ের লাল শাপলা শোভিত পাতার গা বেয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে।
পাখিপ্রেমী মো: আরিফুল হক(২১) জানান, প্রতিবছরের ন্যায় তিনি এবারও এসেছেন পাখির কলোরব দেখতে সুদূর রাজশাহী থেকে। সাথে আরও এসেছে তার প্রিয় আপনেজন বন্ধুরা। অতিথি পাখি দেখতে আসা যাত্রাবাড়ীর সিমায় জানান, এবারই তার প্রথম পাখি দেখতে আসা ।পাখিদের কলোরব মনকে প্রশান্তির অনুভব এনেছে বলে তিনি জানান।
প্রতিবছর সেপ্টেম্বরে হিমালয়ের উত্তরে শীত জেঁকে বসে। তখন ওই অঞ্চলে শীত ও ভারি তুষারপাতে টিকতে না পেরে পরিযায়ী পাখিরা উষ্ণতার খোঁজে ঝাঁকে ঝাঁকে পাড়ি জমায় বাংলাদেশে। মূলত বাংলাদেশে অক্টোবরের শেষ থেকেই এ পরিযায়ী পাখিদের আগমন ঘটে।
মার্চে যখন শীতের বিদায় ঘণ্টা বেজে ওঠে তখন এসব পরিযায়ী পাখি আবার ফিরতে শুরু করে সুদূর সাইবেরিয়া, হিমালয় অঞ্চল, চীন ও ভারতে।
জাবির লেকগুলোতে অতিথি পাখির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতিসহ বিলুপ্ত প্রজাতির পাখিরও দেখা মেলে। সচরাচর যেসব পাখি দেখা যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- জলময়ূর, ডুবুরি, খোঁপা ডুবুরি, ছোট পানকৌড়ি, বড় পানকৌড়ি, শামুকভাঙা বা শামুক খোলা, কালো কুট, কাদা খোঁচা বা চ্যাগা, জলের কাদাখোঁচা পাখি, ছোট জিরিয়া, বাটান, চা পাখি, সবুজ পা, লাল পা পিও, লাল লতিফা বা হটটিটি, গঙ্গা কবুতর, কাল মাখা গঙ্গা কবুতর লেঞ্জা, কুন্তি হাঁস, জিরিয়া হাঁস, নীলশির, গ্যাডওয়াল, লালশির, পাতারি হাঁস, বামনীয়া, ভুটি হাঁস, কালো হাঁস, চখা-চখি, বালি হাঁস, বড় সরালি, ছোট সরালি, রাজহাঁস, কানি বক, ধূসর বক, গো বক, সাদা বক, ছোট বক, মাঝলা বক, কালেম বা কায়েন প্রভৃতি প্রজাতি।