স্টাফ রিপোর্টার,সাভারঃ ”আমার বাগানে ফুঁটেনি কোন ফুল,ফুঁটেছিল শুধু একটি গোলাপ ফুল,,যে ফুলের সৌন্দর্যে সারাবেলা,আমার মন পোড়াত আনমনাতে; শুধু একটি গোলাপ ফুলের গন্ধেতে ”এমন হাজারো কবিতায় শেষ হবার নয় গোলাপের অপরুপ সৌন্দর্য। তেমনি শেষ হওয়ার নয় সাভারের বিরুলিয়ায় গোলাপ বাগানের ভালোবাসার পরশ।
প্রায় প্রতেকদিন সকাল থেকে শুরু করে সন্ধা পর্যন্ত চলে গোলাপচাষীদের এ কর্মব্যস্ততা।চলে ভ্রমনপিপাসু লোকদের আনাগোনা।বিনিময় হয় ভালোবাসার। ২৫০ হেক্টরের এ জমিতে প্রায় বিভিন্ন ধরনের ফুলের চাষ হয়ে থাকে।এর মধ্যে মেরিন্ডা, হাজারি, লিংকন, পাপা মিলন, বধূয়া বা হলুদ ও সাদা গোলাপের চাষ বেশি হয়ে থাকে।
সাভার উপজেলার বিরুলিয়া নামক গ্রামের নামনুসারে বিরুলিয়া ইউনিয়নের নামটি দেওয়া হয়। তুরাগ নদীর পাড় ঘেষে গড়ে ওঠা এ জনবসতিতে ১৯৯০ সালে ঢাকার কয়েকজন যুবক অন্যের জমি লিজ নিয়ে এ এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে প্রথম গোলাপ চাষ শুরু করেন। ফলন ভালো আর ওই যুবকদের সফলতা দেখে স্থানীয়রাও ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ চাষ শুরু করে। খুব কম সময়ের মধ্যে তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে গ্রামটিতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিরুলিয়ার সকল সড়কের পাশ ঘেষেই হচ্ছে গোলাপের চাষ। সবচেয়ে বেশি চাষ হয় বিরুলিয়ার মোস্তাপাড়া, সামাইর ও শ্যামপুর এলাকায়। সকালের দিকে শুরু হয় চাষীদের কর্মব্যস্ততা চলে সন্ধা পর্যন্ত। ফুল কাটা, ফুল বাছাই, ফুল ভেজানো, ফুল বাঁধা সবই যেন কৃষক শেষ করেন সন্ধ্যের আগে। কারণ সন্ধ্যোর পরই জমে মোস্তাাপাড়া ও শ্যামপুর ফুল বাজার। যেখানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ফুলের পাইকাররা এসে কেনেন ফুল ।
গোলাপের চাষের জনপ্রিয়তার বিষয়ে চাষী রহিমকে জিঙ্গেস করলে তিনি জানান, গোলাপ চাষ একটি নিশ্চিত লাভের ব্যবসা। এতে খুব কম ঝুঁকি থাকে কারণ একবার চাড়া রোপন করলে ২৫ বছর নিশ্চিন্তে ফলন পাওয়া যায়। একদিন বাজারে গোলাপের দাম কম পেলেও পরে তা পুষিয়ে নেওয়া যায়, যা অন্য কোনও সবজি চাষে এমন সুবিধা পায় না কৃষকরা। এছাড়াও বিক্রিরও কোনও ঝামেলা নেই। বাড়ির কাছে সৃষ্ট ফুলের বাজার গুলোতে পাইকাররা এসে ফুল কিনে নিয়ে যায়।
সাভার কলেজের শিক্ষার্থী আইয়ুব রানা জানান, বাবার সঙ্গে তিনি এ ব্যবসার হাল ধরেছেন। ১১০ শতাংশ জায়গায় গোলাপের চাষ করেছেন। তাদের চাষ করা গোলাপ ঢাকা, চট্টগ্রাম এমনকি দেশের বাইরেও যাচ্ছে। ১৬ ডিসেম্বর, ১৪ ফেব্রæয়ারি (ভালোবাসা দিবস), একুশে ফেব্রæয়ারি, পয়লা বৈশাখ, নববর্ষসহ বিশেষ দিনে ফুলের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুন। দামও পাওয়া যায় ভালো।
বিরুলিয়া ফুল চাষি সমিতির আহ্বায়ক মুহাম্মদ নাসির জানান, প্রতিদিন বিরুলিয়ার বাজার গুলোতে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার ফুল বিক্রি হয়। যদি সরকার ফুল রফতানিতে আরও ভূমিকা রাখতো তবে এর চেয়ে বেশি গোলাপ বিক্রি হতো বাজার গুলোতে।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/রিফাত