এ বছর কয়েক দফা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আমন মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের শেষ ভরসা ছিল বোরো ধান। আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেক স্বপ্ননিে চাষিরা বোরো ধানের আবাদের জন্য বীজতলা তৈরি করে। প্রকৃতীর এই বে-রশিক বৈরীতায় নষ্ট হয়ে গেছে বীজতলার চারা । ফলে আবারও স্বপ্ন ভঙ্গ বোরো চাষীদের। বার বার প্রকৃতীক বিপর্যায়ে বোরো আবাদ নিয়ে চরম হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন এ সব কৃষকেরা।
জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে এলাকায় পুরোদমে বোরো ধানের চারা রোপণের মৌসুম শুরু হয়। এ সময়ে অধিকাংশ জমিতে চাষাবাদ শুরু করা হলেও এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে নাথাকার কারণে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের তীব্র শীত এবং বৃষ্টিতে বেশিরভাগ বোরো বীজ তলার চারা নষ্ট হয়ে গেছে। তার উপর দ্বিতীয় দফা শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশা মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দেখা দিয়েছে। দিশে হারা হয়ে পড়েছে বোরো চাষের উপর নির্ভরশীল এই সব চাসীরা।
উপজেলার গরিবপুর গ্রামের অসিম মন্ডল বলেন, প্রতি কেজি বীজ ধান ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে কিনতে হয়েছে। এই চড়া মূল্যের বীজ বপন করে যে চারা জন্মেছিল একটানা শীত ও বৃষ্টির কারণে চারা ফ্যাকাশে হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন তৈরি করা জমিতে কি লাগাবো বুঝে উঠতে পারছিনে। এ বছর ২ কেজি ধানের বীজ দিয়ে আমি ৬৮ শতক জমিতে রোপণ করেছিলাম। এ বছর ধনের চারার যে অবস্থা তাতে ৫ কেজি ধানের বীজেও ওই পরিমাণ জমি রোপণ সম্ভব না।
জেলা সদরের গাটাপাড়া গামের কৃষক জিন্নাত আলী, কাওছার হাওলাদার, তাপস, মোবারক আলী মুজু ও শান্তি চৌধুরী বলেন, বোরোর বীজতলা করেও চারা বানাতে পারিনি। যা হয়েছিল তা থেকে কিছু জমি রোপণ করলেও শীতে তা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত বছরে ধানের মূল্য কম ছিল। তাই এবছর আর ঝুঁকি নেবোনা।
চিতলমারী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চিতলমারী উপজেলায় ৬০৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজ বপন করা হয়। উপজেলায় চাষির সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার এবং ধান চাষের জমি রয়েছে ১১ হাজার ৮০০ হেক্টর।
উপজেলা কৃষি অফিসার ঋতুরাজ সরকার জানান, শীতে বোরো বীজতলার কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। শীতের তীব্রতা কেটে গেলে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে চাষিদের নানা ভাবে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
আ/রিফাত