আমাদেরবাংলাদেশ ডেস্ক।। সাভারে বাল্য বিবাহে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে অবসরপ্রাপ্ত এক সিটিএসবি সদস্য আঃ বারীর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাভার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে তার পরিবার।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাভার পশ্চিম ব্যাংক টাউন এলাকায় এ হামলার ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, গত সোমবার পশ্চিম ব্যাংক টাউন এলাকায় প্রভাবশালী রায়হান শরীফ তৃতীয় স্ত্রী হিসাবে মুন্নী নামের এক নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে করে। এ বিবাহে বাধা সৃষ্টির অপরাধে ২৫/০৬/২০ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রনি, মনির, রায়হান শরীফ দলবদ্ধ হয়ে অতর্কিত আব্দুল বারীর উপর হামলা চালায় এবং তাকে গুরুতর আহত করে।
এ সময় হামলাকারীরা আঃ বারীর ব্যবহৃত একটি মোবাইল সেট, একটি স্বর্নের চেইন এবং পকেটে থাকা টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে রনির বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যাবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় আহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। উল্লেখ্যঃ সাভারে স্থানীয় ক্ষমতা আর টাকার জোরের কাছে হার মেনে ১৪ বছরের নাবালিকা মেয়েকে হতে হলো ৪২ বছর বয়সী এক ব্যাবসায়ীর তৃতীয় স্ত্রী।
এ ঘটনায় এলাকায় রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় চায়ের দোকানগুলোতে সবার মুখেই এখন আলোচনা সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে এ বিয়ের ঘটনাটি। আলোচনার টপিক এখন করোনা আতংকেও রায়হানের তৃতীয় বিয়ে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২২ /০৬ /২০ ইং সোমবার রাতে সাভার পশ্চিম ব্যাংক টাউন বরাইগ্রাম এলাকার মোঃ সুন্দর আলী ওরফে শাহজালালের ছেলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মোঃ রায়হান শরীফ (৪২), সুবর্ন আক্তার মুন্নী (১৪) নামের নাবালিকা একটি মেয়েকে তৃতীয় স্ত্রী হিসাবে বিবাহ করে। মুন্নী সাভার পশ্চিম ব্যাংক টাউনের বরাইগ্রামের বাসিন্দা মোঃ মনিরুজ্জান ও মাতা রোকসানা বেগমের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ।
এ বাল্য বিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলে, ছেলে পক্ষের দাপটের কাছে তারা হার মানতে বাধ্য হয়।এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করতে অনেকের বাড়িতে এসে শাসিয়ে যায় তারা। এলাকায় কয়েকটি বাড়ি, মার্কেট, বড় ব্যবসা থাকায় টাকার জোরে নানান অপকর্ম করে তারা বলেও অভিযোগ করে স্থানীয়রা।
বাল্য বিবাহের ঘটক এবং মেয়ের ফুফা মোঃ তারা মিয়া সাংবাদিকদের অভিযোগ করে জানান, এ বিয়ের কথাবার্তা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমিই ঠিক করছিলাম। কিন্তু মেয়ের বয়স কম হওয়ার কারনে আমি বিয়ের তারিখ পেছাতে বলি, একারনে বিয়ের সময় তারা আমাকে ডাকে নাই, তাই আমি তাদের সাথে সম্পর্ক রাখতে চাইনা।
এ বিয়ের উকিল বাবা মোঃ মনির হোসেন জানান, যেহেতু বিয়ে সাদীর ব্যাপার কেউ না কেউ তো উকিল হতোই, তাই আমি উকিল হিসেবে বিয়েতে ছিলাম। মেয়ের তো বয়স কম রেজিস্ট্রি হলো কিভাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে টাকার বিনিময়ে সবই সম্ভব হয়।
ছেলে পক্ষের টাকা আছে তারা সবই পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, রায়হান শরীফের প্রথম স্ত্রী নির্যাতনের কারনে দুটি ছেলে মেয়ে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর সে আবার একটা বিয়ে করে এবং সে স্ত্রীও নির্যাতনের শিকার হয়ে চলে যায়। চলে যায় বলতে, তাদেরকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। কারন রায়হান শরীফের চরিত্রগত সমস্যা আছে। সে অল্প বয়সী মেয়ে দেখলেই বিয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। আর তা সফল করতে যত টাকা পয়সা খরচ হোক তাতে সমস্যা নেই।
তারই অংশ হিসাবে সে মুন্নী নামের ১৪ বছর বয়সের নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে করেছে। মুন্নীর পিতা মনিরুজ্জামান একজন চায়ের দোকানদার, তাকে বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে এ বিয়েতে রাজি করানো হয়। রায়হান শরীফের কারনে এলাকায় অনেক দরীদ্র মেয়ের বাবারা আতংকিত, কখন আবার সে চতুর্থ স্ত্রী হিসেবে আবার কাকেই বা টার্গেট করে।
এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে উনাইল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ডিপজল সাহেবের মার্কেটে, রায়হানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রায়হান এন্টারপ্রাইজে যায় সাংবাদিকরা, সেখানে রায়হানের ভাই পরিচয়ে জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের জানান, কথাবার্তা ফাইনাল হয়ে আছে, যে কোন মুহুর্তে বিয়ে হবে। তবে এখনো বিয়ে রেজিষ্ট্রি হয়নি। আর এটাতো সামান্য বিয়ে, মার্ডার তো করিনি। আপনাদের উপস্থিতিতে আমরা অপমানিত বোধ করছি। আমরা দোষত্রুটি করলে প্রশাসন দেখবে। আপনারা এখন আসতে পারেন।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ পারভেজুর রহমানকে মুঠোফোনে অবগত করলে তিনি জানান, আমরা বিষয়টা তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো। সেই সাথে আমি সাভার উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে জানানো হবে, তিনি ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।