মহসিন আজাদ।। নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। তবে অপরিবর্তীত রয়েছে বন্যা পরিস্থিতির। এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘটসহ দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি। সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জানান, আগামী দুই, তিন দিনের মধ্যে আরো কমতে শুরু করতে পারে তবে ঈদের আগে যমুনা নদীর পানি তৃতীয় দফায় বৃদ্ধি পাবার আশঙ্কা রয়েছে।
ফরিদপুর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকছে পৌরসভার কয়েকটি এলাকায়। প্লাবিত হয়েছে বহু বাড়িঘর ও ফসলের ক্ষেত। জেলা সদর থেকে চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলায় যাওয়ার সড়টির কয়েকটি স্থান পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে সড়কটি।
রাজবাড়ীতে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন কয়েক হাজার পরিবার। পানি বৃদ্ধির ফলে প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। দূর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ গবাদি পশুর খাদ্য সংকট। জামালপুরে দেওয়ান গঞ্জ উপজেলায় জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ রুটে রেল লাইন তলিয়ে জামালপুরের সাথে সরিষাবাড়ীর ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।
এদিকে, পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীর ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে ২টি বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা। এদিকে চরাঞ্চলের ৫ ইউনিয়নের বাড়ি ঘরে পানি ঢুকায় অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
শরীয়তপুরে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নড়িয়া-জাজিরা সরকটির মোক্তারের চর ও নড়িয়া-সুরেশ্বর সড়কের সোনারবাজার এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়ক গুলো দিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল ।
এদিকে, উত্তরাঞ্চলে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও গাইবান্ধায় যমুনার ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে আছে ১৬৫টি চরাঞ্চলসহ ২৬ ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষ। ঘরবাড়িতে বন্যার পানি ওঠায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে পানিবন্দী পরিবারগুলো ।
লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে পানি কমলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি।দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। কুড়িগ্রামে ধরলার পানি কিছুটা কমে যাওয়ায় কেউ কেউ বাড়ি ফেরা শুরু করেছে। তবে বন্যার্তদের মাঝে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানিসহ শুকনো খাবার ও পয়নিস্কাশন ব্যবস্থার অভাব। সেই সাথে রয়েছে বিভিন্ন জায়গা থেকে ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ ।
বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি কমলেও বিভিন্ন স্থানেআশ্রয় নেয়া মানুষ দূর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। অপরদিকে বাঙ্গালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনও তা বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেটের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সীমান্তবর্তী চারটি উপজেলার পানি কমতে শুরু করলেও কুশিয়ারা অববাহিকা বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।