নিজস্ব প্রতিবেদক।। আজ সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জবরদখল ও মানবেতর জীবনযাপন থেকে মুক্তি পেতে পরিবারের দুইজন সদস্য নিয়ে মানববন্ধন করেন মনিরুল ইসলাম। তারা সাথে আলাপ কালে জানা যায়, মনিরুল ইসলাম (৩৩), পিতা-মোঃ ফজলুর রহমান, মাতা-মৃত ময়না বিবি, তিনি চাচকৈড় বাজার, উপজেলা-গুরুদাসপুর, জেলা-নাটোর এর বাসিন্দা। মনিরুল ইসলাম জানান, তার বাবার সাথে বনিবনা না হওয়ায় তার মা তাদের দুই ভাই-বোনকে নিয়ে নানীর বাড়িতে উঠে। সেখানে থাকাকালীন তার মায়ের নানী সখেজান বেওয়া সন্তুষ্ট হয়ে তার ভোগদখলকৃত জমি থেকে ৫ শতাংশ জমি ৩৬,৫০০/= (ছত্রিশ হাজার পাঁচশত) টাকার বিনিময়ে গত ০৫/১১/২০০৬ইং তারিখে মনিরুলের মায়ের নামে রেজিষ্ট্রিমুলে ভোগদখল বুঝিয়ে দেন।
জানা যায়, উল্লেখিত জমিতে মনিরুল ও তার পরিবার ঘরবাড়ি করে ভোগদখলরত থাকা অবস্থায় একই এলাকার মোঃ শাহনেওয়াজ উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও গুরুদাসপুর পৌরসভার মেয়র ২য় বিয়ে হয়। তাদের পরিবারে ঘরের প্রয়োজন হওয়ায় পূর্বের তৈরিকৃত টিনের ঘর ভেঙে তার মা বিভিন্ন ব্যাংক ও সমিতি থেকে লোন নিয়ে ১ তলা পাকা বিল্ডিং তৈরি করেন। সে লোনের দায়ভার মনিরুলসহ তার পরিবার এখনও বয়ে বেড়াচ্ছি।
মনিরুল আরো বলেন, ভাড়া পাওয়ার লক্ষ্যে আমার মা ও উল্লেখিত সৎ বাবার সমন্বয়ে উক্ত বাড়ির ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলা কমপ্লিট করা হয়। আমার সৎ বাবা শুধুমাত্র তার ঔরসের মেয়ে সিমির লেখাপড়া ও ভবিষ্যতের জন্য আমার মাকে ঢাকায় বাসা ভাড়া করে রাখতেন। আমরা ভাই-বোন বাড়ির কাজকর্ম করে দিন অতিবাহিত করতে থাকার প্রাক্কালে হঠাৎ আমার মায়ের চরম অসুস্থতা ও ঢাকায় সুচিকিৎসার কথা জানতে পারি। সৎ বাবার ভয়ে কোন কথা বলতে না পারার একপর্যায়ে জানতে পারি যে, আমার মা মারা গেছেন। পরবর্তিতে আমার মায়ের অকাল মৃত্যুর বিষয়ে সঠিক জবাব চাওয়ায় আমি আমার সৎ বাবার চক্ষুশুল হই। প্রায় ১,১০,০০,০০০/= (এক কোটি দশ লক্ষ) টাকার বাড়ি আত্মসাৎ করতে ও ব্যবসা বাণিজ্য থেকে বিতাড়িত করতে তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন এবং ভয়-ভীতি ও হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন। অসৎ উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের ফ্লাটের রুমের মধ্যে তিনি বাইরের লোকজন এনে বিভিন্ন আসর বসাতেন। উনার ক্ষমতার ভয়ে সবকিছু মুখবুজে সইতে থাকলেও আমার অনুপস্থিতিতে গত ১৬/০৯/১৯ইং তারিখে নিজের ভাই ফারুক মোল্লা (৩৫) ও নিজস্ব লোকজনদের দিয়ে আমার স্ত্রীসহ সন্তানদের খাবার থেকে উঠিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং মালামাল ভাংচুর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে ঘরে তালা লাগিয়ে দেয়।
বিষয়টির কারণ জানতে চাওয়ায় তিনি বাড়ি বা এলাকার সীমানায় পা রাখলে আমিসহ আমার পরিবারের জীবন নাশের হুমকি দেন। সেই থেকে অদ্যবধি আমাদের ন্যায্য হিস্যার শেষ সম্বল হারিয়ে একব্যাগ কাপড় চোপড়ের সংসার নিয়ে ভাসমান অবস্থায় বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় খুজে বেড়াচ্ছি।
মনিরুলের স্ত্রী নাজনীন বেগম জানান, অর্ধহারে-অনাহারে বিভিন্ন স্থানে দিন কেটে গেলেও আমার ২ মেয়ের লেখাপড়া ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমার ঘরের মালামাল বিভিন্ন মানুষকে দিয়ে ও দামী মালামাল নিয়ে বাসা খালি করে ভাড়াটিয়া উঠিয়েছে। আমাদের প্রাপ্য ঘর ভাড়াসহ সব কাজকর্ম ও আয়ের পথ বন্ধ করতে আমার স্বামীর পেছনে লোক লাগিয়ে রেখেছে। তার মায়ের উত্তরসূরি হিসাবে উক্ত জমি ও বাড়ির স্বত্বের সত্ববান হয়েও দলীয় এবং মেয়রের ক্ষমতা খাটিয়ে তার সৎ বাবা অন্যায়ভাবে আমাদের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করিয়াছে।
মনিরুল আরো বলেন, এসব বিষয়ে পরিত্রাণ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মাননীয় সংসদ সদস্য/ উপজেলা চেয়ারম্যান/ পুলিশ সুপার দায়স্থ হলেও বিভিন্ন অজুহাতে তারা অপারগতা প্রকাশ করেন। সব জায়গাতেই তিনি কালক্ষেপন করে করে বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখায় আমার পরিবারকে নিয়ে খুবই মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। উপায়ান্তর না পেয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ, একান্ত সহযোগীতা ও হস্তক্ষেপ কামনার আশায় অতিকষ্টে ঢাকায় আসতে বাধ্য হয়েছি আজ ৯দিন যাবত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনেই মানববন্ধন ও অবস্থান নিয়ে আছি। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয় গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ৫দিন আগে সে জয়েন করেছে। তাই এ বিষয় এখন কিছু বলতে পারছে না বলে তিনি জানান।