বেনাপোল প্রতিনিধি।। যশোরের বেনাপোল টু পুটখালী নির্মানাধীন সড়কের ছোটআঁচড়া মাঠ পাড়া এলাকায় সরকারী পাকা রাস্তা থেকে মাটি নিয়ে নিজের জমিতে দিয়েছেন রেকসোনা আমিরুল দম্পতি। মাটি চুরির অভিযোগে সেখানে সাংবাদিক পরিচয়ে একই গ্রামের সাহাবুদ্দিন তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর পূর্বক ১১,৫০০/- টাকা নিয়ে আসার অভিযোগ করেছেন রেকসোনা বেগম ।
১৭ই এপ্রিল শুক্রবার সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় ছোটআঁচড়া-পুটখালী সড়ক বৃদ্ধির লক্ষে রাস্তার দুই পাশ খনন করে মাটি রাস্তার পাশে রাখা হয়েছে। এই মাটি রেকসোনা-আমিরুল দম্পতি ও তাদের ছেলে মিলে তাদের পাশের জমির কয়েক ঝুড়ি মাটি কলা গাছের গোড়ায় দেন। আর এই মাটি নেওয়াকে কেন্দ্র করে সরকারী মাটি নেওয়ার খবর পেয়ে সেখানে যান একই গ্রামের বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন নামে পরিচিত সাহাবুদ্দিন। সেখানে গিয়ে তিনি মাটি চুরির দায়ে তাদেরকে মামলা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দিতে চান এবং ভয় ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে চলে আসেন। পরে ঐ মহিলা মামলার ভয়ে তার প্রতিবেশী সাংবাদিক সাইফুলকে নিয়ে শাহাবুদ্দিনের হাতে টাকা বুঝিয়ে দেন ১১,৫০০ মাত্র।
এ ঘটনার বিষয়ে রেকসোনা বলেন, রাস্তার পাশে কিছু মাটি ছিল সেটা নিয়ে আমার ছেলে আমাদের কলা গাছের গোড়ায় দিয়েছে। এই নিয়ে আমার প্রতিবেশী সাংবাদিক সাইফুল খবর দিয়ে তার সহযোগী সাহাবুদ্দিনকে আমার বাড়িতে পাঠায়। সে এসে আমাকে থানা পুলিশের না না রকম ভয় সহ মামলা দিবে বলে মাটি নেওয়ার দায়ে জমি ও বাড়ি কিছুই থাকবেনা। ভয় পেয়ে আমি আমার বাড়িতে থাকা জমানো রোজার মাসের বাজার খরচের ১১,৫০০ টাকা সাইফুলে হাতে দিয়ে বলি সাহাবুদ্দিনকে দিয়ে আমাদেরকে মাফ করুন আর দেওয়ার মতো আমাদের কোন সমর্থন নেই জীবনে বহু মানুষ দেখেছি কিন্তু এই রকম মানুষ আর দেখি নাই
এ বিষয়ে সাইফুল বলেন, আমি এসব কিছুই জানিনা ঐ মহিলা ভয়ে ১১৫০০ টাকা আমাকে দিয়েছিলো সাহাবুদ্দিনকে দেওয়ার জন্য, আমি সাহবুদ্দিনকে দিয়ে দিয়েছি। মাঝখান থেকে বিনা কারণে আমার নাম হচ্ছে আমি নাকি সাহাবুদ্দিনকে খবর দিয়ে নিয়ে এসেছি কিন্তু আমি এসব কিছুই জানিনা।
এই বিষয়ে সাহাবুদ্দিন বলেন, আমি মহিলার ছেলেকে মাটি নেওয়া অবস্থায় ধরেছি তার ভিডিও আছে আমার কাছে। রোকসনার কাছ থেকে টাকা কেন নিয়েছেন বললে তিনি বলেন, টাকা সাইফুল আমাকে দিয়েছে এবং আমি ঘটনার পর দিন মহিলা আমাদের বাড়িতে গেলে মহিলাকে আমি ০২ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছি।
এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার ডিউটি অফিসার মুরাদ শেখ জানান ছোঁটআচড়া গ্রাম থেকে এই বিষয়ে অভিযোগ দিতে একজন মহিলা থানায় এসেছিলেন কিন্তু তিনি রোজা আছেন শরীর অসুস্থ পরে আসবেন বলে, অভিযোগ না দিয়ে চলে গেছেন। ছোট আচড়া গ্রামবাসীর একই দাবি তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের সুষ্ঠু বিচার করা হোক।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/শিরিন আলম