সাভার প্রতিনিধি ।। আশুলিয়ায় একটি বাঁশবাগানের ভিতর থেকে আনজু খাতুন (৩১) নামের এক নারী পোশাক শ্রমিকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সকালে আশুলিয়ার কাঠগড়া নয়াপাড়া এলাকার একটি বাঁশবাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার কালে নিহতের মুখমণ্ডল,মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায় ।
নিহত আনজু খাতুন (৩১) গাইবান্ধা জেলার সদর থানার ঘাংগোয়া ইনিয়নের মৃত মনোয়ার হোসেনের মেয়ে। সে আশুলিয়ার বাগবাড়ী হাবীবুর রহমান এর ভাড়া বাসায় থেকে হা-মীম গ্রুপের টিআই এসডব্লিউ এল-১ নামে একটি পোশাক কারখানার অপারেটর হিসাবে কাজ করতো বলে জানা যায়।
বাড়ীর মালিক হাবিবুর রহমান বলেন,আনজু খাতুন এর স্বামীর বাড়ী এলাকার মেহমান আছে তার বাসায়। আপনি তাদের সাথে কথা বলেন। এ সময় আনজুর স্বামীর এলাকার আত্মীয়ের কাছে ফোন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া আনজুর আত্মীয় জাকিয়া সুলতানা বলেন,গত দুই দিন আগে তারা বাসায় বেড়াতে আসে। গতকাল রাত আনুমানিক ৭ টার দিকে আনজু খাতুনের সাথে শেষ কথা হয়েছে বলে জানা যায়।
এছাড়া তিনি আরও বলেন,আনজু খাতুনের স্বামীর নাম মো: ফিরোজ। ফিরোজের গ্রামের বাড়ী মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার লোহগ্রামে। আনজু ফিরোজের দ্বিতীয় স্ত্রী। আনজু খাতুনের দেড় বছরের লামিয়া নামে এক কন্যা সন্তান আছে।
পুলিশ জানায়,সকাল ৮ টার আশুলিয়ার কাঠগড়া নয়াপাড়া এলাকার একটি বাঁশবাগানের ভেতর নারী পোশাক শ্রমিকের মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের গলায় একটি আইডি কার্ড দেখা গেছে। তিনি হা-মীম গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার অপারেটর ছিলেন। কেউ তাকে হত্যা করে ওই স্থানে ফেলে রেখে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামীম গ্রুপের টিআইএসডব্লিউএল -ইউনিট ১ (TISWL-1)এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ইসমাইল হোসেন বলেন, আনজু খাতুন নামে এক নারী শ্রমিক গতকাল রাত ৯ টা ১৫ মিনিটের ডিউটি শেষ করে কারখানা থেকে বাসায় রওয়ানা হয়ে যায়। কিন্তু আজ সকালে তিনি কারখানায় আসেননি। পরে লাইনের সুপারভাইজার আনজুকে কল দিলেও আনজু ফোন রিসিভ করেনি।
উক্ত বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ভজন চন্দ্র এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,পুলিশ হত্যাকান্ডের কারন উদঘাটনের চেষ্টা করছে। কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে কেউ তাকে হত্যা করে ফেলে রেখে যেতে পারে। মরদের উদ্ধার করা হয়েছে। এবং মরদের ময়না তদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এব্যাপারে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
এবিডি শিরিন আলম