নিজস্ব প্রতিবেদক।। আশুলিয়া থানাধীন ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না হলেও শিল্পাঞ্চলখ্যাত এই ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আসন্ন এই নির্বাচনে ভোটারদের মাঝে দেখা যাচ্ছে নতুন ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের প্রার্থীর প্রতি বিশেষ আগ্রহ। এই প্রেক্ষাপটে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাধারণ ভোটার ও স্থানীয়দের আলোচনায় উঠে এসেছেন ভাদাইল এলাকার বাসিন্দা হাজী মো. ইসরাফিল হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভাদাইল ও এর আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণ মূলক কর্মকাণ্ডে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন ইসরাফিল হোসেন। বিশেষ করে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পুরাতন ইপিজেড সংলগ্ন এলাকায় এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে দুটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ, ভাদাইল এলাকায় অটোরিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং ফুটপাতের চাঁদাবাজি বন্ধে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা স্থানীয়দের নজর কেড়েছে। এসব জনবান্ধব উদ্যোগের কারণেই সাধারণ মানুষের একাংশের কাছে তিনি আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে হাজী মো. ইসরাফিল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান,বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনীতিতে বংশীয় প্রভাব বা পেশিশক্তি খাটানোর সুযোগ কমে এসেছে। তিনি বলেন, “এখন শুধু দলীয় প্রতীক থাকলেই নির্বাচনে জয় নিশ্চিত বলা যায় না। মানুষ এখন অনেক সচেতন। প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, মানুষের আস্থা ও সমর্থন অর্জন করাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আমি দীর্ঘদিন ধরে সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকার ছোটখাটো সমস্যা সমাধান ও সামাজিক কাজে যুক্ত থাকার চেষ্টা করছি।”
হঠাৎ মূলধারার নির্বাচনে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে সেবা দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে। সামাজিক কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় নানা বাধা ও কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহলের হুমকির মুখে পড়তে হয়। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেলে বড় পরিসরে মানুষের সেবা করা সম্ভব। মূলত এলাকার মুরুব্বি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শ ও চাপেই আমি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে ইসরাফিল হোসেন জানান, নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার জরাজীর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, তীব্র যানজট নিরসন, জননিরাপত্তা জোরদার এবং সাধারণ মানুষের জন্য নাগরিক সেবা প্রাপ্তি সহজীকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন। ধামসোনাকে একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত ও সেবামুখী মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করাই তার মূল লক্ষ্য।
এদিকে স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত নির্বাচনগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে তারা এবার প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সজাগ। তারা বলছেন, প্রার্থীর অতীত আমলনামা,সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকা এবং এলাকার উন্নয়নে কার বাস্তব ভূমিকা কতটুকু-এসব বিচার-বিশ্লেষণ করেই এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন তারা। সেই হিসেবে ‘নতুন মুখ’ হিসেবে হাজী মো. ইসরাফিল হোসেনের প্রতি তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশের ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে।
এবিডি.কম/জাহাঙ্গীর আলম রাজু