আশুলিয়া থানায় জিডি বাণিজ্যের ‘সিন্ডিকেট’: নেপথ্যে দুই নারী এসআই ও তাদের ব্যক্তিগত রাইটার আরাফাত
মোস্তাবিন সিয়াম বিশেষ প্রতিনিধি,
ঢাকার সাভারের আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অভিযোগ করতে গিয়ে চরম হয়রানি ও আর্থিক শোষণের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আয়েশা সিদ্দিকা ও এসআই নুরুন্নাহার সরাসরি এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কাজ করছেন। কোনো ভুক্তভোগী থানায় জিডি বা অভিযোগ লিখতে গেলে এই দুই কর্মকর্তা আইনি সহায়তা না দিয়ে, উল্টো তাদের নিজস্ব ‘ব্যক্তিগত রাইটার’ (লিখনকারী) আরাফাতের কাছে পাঠিয়ে দেন। আর এই সুযোগে আরাফাত নামের ওই রাইটার ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই জিডি বাণিজ্যের পুরো প্রক্রিয়ার একটি স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে।
থানায় জিডি বা অভিযোগ করতে কোনো সরকারি ফি না থাকলেও আশুলিয়া থানায় তৈরি হয়েছে এক অদৃশ্য নিয়ম। ভুক্তভোগীরা জানান, ডিউটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় এসআই আয়েশা সিদ্দিকা এবং এসআই নুরুন্নাহার সাধারণ মানুষের সেবা দেওয়ার চেয়ে তাদের পকেট কাটতেই বেশি আগ্রহী। থানায় কেউ অভিযোগ নিয়ে এলে এই দুই নারী কর্মকর্তা তা গ্রহণ না করে বা নিজেরা না লিখে, সরাসরি নির্দেশ দেন বাইরে বসা তাদের বিশ্বস্ত রাইটার আরাফাতের কাছে যাওয়ার জন্য।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আরাফাত নামের ওই যুবক থানায় আগত সেবাগ্রহীতাদের বাধ্য করে নিজের মতো করে জিডি ও অভিযোগ লিখে দিচ্ছেন এবং বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা কম দিতে চাইলে অভিযোগ সঠিকভাবে জমা দেওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়। অসহায় সাধারণ মানুষ নিরুপায় হয়ে আরাফাতের দাবি করা ইচ্ছামতো টাকাই পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমরা থানায় আসি আইনি নিরাপত্তা ও সেবা পাওয়ার আশায়। কিন্তু ডিউটি অফিসাররাই যদি আমাদের দালালের হাতে তুলে দেন, তবে আমরা কোথায় যাব? আয়েশা সিদ্দিকা ও নুরুন্নাহার ম্যাডাম নিজেরা কোনো কাজ না করে আরাফাত নামের ওই ছেলেকে দিয়ে সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন। থানায় জিডি করতেও এখন হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে।”
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, থানায় আগত যেকোনো সেবাগ্রহীতার অভিযোগ বা জিডি ডিউটি অফিসার নিজে লিখে দেবেন অথবা বিনামূল্যে তা গ্রহণ করবেন। কোনো অবস্থাতেই বাইরের কোনো দালাল বা রাইটারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বাধ্য করা যাবে না।
আশুলিয়া থানার দুই নারী এসআই-এর এই ওপেন সিক্রেট ‘রাইটার বাণিজ্য’ পুলিশের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এই চক্রের মূল হোতা রাইটার আরাফাত কার শক্তিতে থানায় বসে এই চাঁদাবাজি চালাচ্ছেন, তা নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় জনমানুষের দাবি, অবিলম্বে ভিডিও ফুটেজ আমলে নিয়ে এসআই আয়েশা সিদ্দিকা, এসআই নুরুন্নাহার এবং তাদের সহযোগী রাইটার আরাফাতের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।