রাজশাহীর প্রতিনিধি :রাজশাহীর বাগমারায় আবাসিক, বাণিজ্যিক এলাকা, বন, বাগান, জলাভূমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক সন্নিকটবর্তী এলাকায় আবাদি কৃষি জমির উপর অবৈধভাবে স্থাপিত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতিত এবং লাইসেন্স বিহীনভাবে পরিচালিত ইট ভাটাগুলিতে পুনরায় ইট প্রস্তুতের জন্য আগাম কার্যক্রম চালু হয়েছে। এ সকল ইটভাটায় ইট প্রস্তুতের জন্য কাঁচামাল হিসাবে কৃষি জমি হতে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং জ্বালানী হিসাবে কয়লার পরির্বতে ব্যাপকহারে কাঠ ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ইট পুড়ানোর কাজে নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত সালফার, অ্যাশ, মারকারি বা অনুরুপ উপাদান সম্বলিত কয়লা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় কর্তৃক সরবরাহকৃত ইটভাটার তথ্য প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই উপজেলায় লাইসেন্স বিহীন মোট ৪৬টি ইট ভাটা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ইহার সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রন আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ৪ ধারা মতে লাইসেন্স ব্যতিত ইট ভাটা স্থাপন ও ইট প্রস্তুত নিষিদ্ধ। এই আইনে ১৪ ধারায় বলা হয়েছে যদি কোন ব্যক্তি লাইসেন্স বিহীন কোন ইট প্রস্তুত বা ইট ভাটা স্থাপন, পরিচালনা বা চালু রাখেন তাহলে অনধিক দুই বৎসর এর কারাদন্ড বা অন্যুন ২০ লক্ষ টাকা অর্থ দন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। কিন্তু বাগমারা উপজেলায় লাইসেন্সবিহীন অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে ঐ সকল ইট ভাটার কার্যক্রম। তথাপিও স্থানীয় প্রশাসন ঐ সকল অবৈধ ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় নিরুবিচ্ছিন্ন অবৈধভাবে ইট ভাটার বাণিজ্য চলচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হাইকোর্ট বিভাগের একটি রীট পিটিশনের আদেশের প্রেক্ষিতে গত ০৩/০৯/২০১৯ ও ০৯/০৯/২০১৯ ইং তারিখে রাজশাহী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এর তত্ত্বাবধানে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে এ.এস.এম (মির্জাপুর), এম.এম.বি (সুলতানপুর), এ.কে (আরঙ্গবাদ), এস.কে ওয়াউ (শ্রীপুর), জে.বি.কে (ভাগনদী), এ.জেড.কে (কাতিল), এম.এ.এম (হাট মাধনগর), হিরো ব্রিকস (ধামিন কামনগর), টাটা ব্রিকস (মাদারীগঞ্জ) এই ৯টি ইট ভাটার ক্লিন ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
তবে রীট পিটিশন ৬৬৭৯/২০১৯ এর আদেশ পর্যালোচনা দৃষ্টে দেখা যায় ল’ইয়াস সোসাইটি ফর ‘ল’ সচিব পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগ (বগুড়া), জেলা প্রশাসক রাজশাহী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাজশাহী, উপ-পরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর, রাজশাহী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বাগমারা, অফিসার ইনচার্জ, বাগমারা, সহকারী পরিচালক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বাগমারা রাজশাহীদের বাগমারা উপজেলায় পরিচালিত ৯টি ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধে তাদের নিস্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে ৬৬৭৯/২০১৯ নং একটি রীটি পিটিশন দায়ের করে। যা গত ২৩/০৬/২০১৯ ইং তারিখে শুনানীনান্তে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুলনিশী জারীকরতঃ বাগমারা উপজেলায় স্থাপিত লাইসেন্স বিহীন অবৈধভাবে পরিচালিত ৯টি ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধে ঐ সকল ইটভাটা গুলোতে ইট প্রস্তুতের সরঞ্জামাদি জব্দ এবং ক্লিন ও অফিস বন্ধে নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের উক্ত আদেশ যথারীতি বলবৎ ও কার্যকর রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, প্রকৃত পক্ষে উপরোক্ত ৯টি ইট ভাটার ক্লিন ভেঙ্গে দেওয়া হলেও ঐ সকল ইট ভাটায় ইট প্রস্তুতের জন্য কোন সরঞ্জামাদি জব্দ বা অফিস বন্ধ করা হয়নি। ফলে এ সব ইটভাটায় পুনরায় ইট প্রস্তুতের জন্য আগাম কার্যক্রম চালুর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ল’ইয়াস সোসাইটি ফর ‘ল’ এর পক্ষে একজন আইনজীবি বলেন, আদালতের আদেশে ৯টি ইটভাটার ক্লিন ভেঙ্গে দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ইট ভাটাগুলোর অফিস বন্ধ করা হয়নি। এছাড়াও ঐ সকল ইটভাটায় ইট প্রস্তুতের জন্য কোন সরঞ্জামাদিও জব্দ করা হয়নি। ফলে আদালতের আদেশ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না করার কারণে আদালত অবমাননা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে শ্রীঘ্রই কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।