
তরিকুল ইসলাম, খুলনা ব্যূরোঃ যোগদানের পর থেকেই রূপসা উপজেলার উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন আক্তার। দালাল, ঘুষ, দূর্ণিতি, মাদকমুক্ত মডেল উপজেলা গড়ার দৃঢ প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে চলেছেন তিনি। রূপসাবাসী পেয়েছেন অক্লান্ত পরিশ্রমী তারুণ্যের প্রতিক এক অভিভাবককে । অসহায়, দারিদ্র, নিপিড়িত তথা সুবিধা বঞ্চিত লোকজন তাদের আস্থার জায়গা খুঁজে পেয়েছেন।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ইউএনও নাসরিন আক্তার এ উপজেলায় যোগদানের মাত্র দুই মাস অতিবাহিত হতেই দক্ষতা ও সততার মাধ্যমে সর্বস্তরে সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। এলাকার কোন সমস্যা বা সম্ভাবনার তথ্য পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি সেখানে ছুটে যান খোঁজ নিতে ।
খুলনা বিভাগীয় অফিসের সিনিয়র সহকারী কমিশনার থেকে পদোন্নতি পেয়ে জেলার রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে গত ২৬ আগষ্ট যোগদান করেন তিনি।
তিনি ৩০ তম বিসিএস পাশের পর বাগেরহাট ডিসি অফিসের সহকারী কমিশনার হিসেবে ২০১২ সালে কর্মজীবন শুরু করেন। তাঁর পিতার বাড়ি পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলায় ও শ্বশুরবাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায়। রূপসার সাবেক ইউএনও মোঃ ইলিয়াছুর রহমান পদোন্নতি পেয়ে গত ১০ জুলাই এডিএম হিসেবে গোপালগঞ্জে চলে যান। তিনি এ উপজেলায় থাকাকালীন যথাযথ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্কুলের মাঠ ভরাট, জমি আছে, ঘর নাই প্রকল্পের নির্ধারিত কাঠামোর থেকে অনেক উন্নত ঘর তৈরি সহ ব্যতিক্রমী বহু কাজ করে স্বনাম অর্জন করেছিলেন।
ইউএনও মোঃ ইলিয়াছুর রহমান উপজেলায় ১ লক্ষ টাকা দিয়ে নির্ধারিত কাঠামোর থেকে উন্নত টয়লেট যুক্ত পাঁকাঘর তৈরি করে জনপ্রসাশন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি যে স্বনাম অর্জন করে গেছেন বর্তমান ইউএনও নাসরিন আক্তারও সেই দিকে এগিয়ে চলেছেন। ইউএনও নাসরিন আক্তার যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি নিজেকে মানবসেবায় সর্বদা নিয়োজিত রেখেছেন।
উপজেলার যে কোনো সমস্যার সমাধানে বিদ্যুতের গতিতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। প্রতিটি এলাকায় শুরু করেছেন উন্নয়নের ছোয়া ও দুস্থ অসহায়দের সহযোগিতা।
এছাড়া যেখানে অনিয়ম দেখছেন সেটাকে তিনি শক্ত হাতে দমন করছেন। নিরপেক্ষ জায়গা হিসাবে সকলে খুজে নিয়েছেন ইউএনও নাসরিন আক্তারকে। এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে নিয়েছেন জরুরী পদক্ষেপ। পাথরঘাটা এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে এসিল্যান্ড কে দিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করিয়ে চেয়ারম্যান এর মাধ্যমে স্থানীয় সকল বাধ অপসারণের ব্যবস্থা করেছেন। রূপসা বাজারের জলাবদ্ধতা নিরসনে ২ লক্ষ টাকা ড্রেন করার জন্য বরাদ্দ দিয়েছেন। পরিবেশ সংরক্ষনের জন্য প্রায় ১৫০০০ গাছের চারা বিতরণ করেছেন। মাদক নির্মূলে মাদক বিরোধী সমাবেশ করার পাশাপাশি নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে মনিটরিং জোরদার করতে সমগ্র উপজেলা পরিষদ সিসি টিভির আওতায় আনা হয়েছে। রূপসার ঐতিহ্যবাহী মৃৎ শিল্পকে পুনরুদ্ধার করতে পাল পাড়ায় পরিদর্শন করে উন্নত প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা সহ মৃৎশিল্পের সমিতির অনুকূলে ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে মাঠ ভরাটের ব্যবস্থার দায়িত্ব দিয়েছেন সমবায় দপ্তরকে।
এছাড়া ভূমি অফিসের বিভিন্ন সমস্যা ও জটিলতা শক্ত হাতে দমন করে চলেছেন ইউএনও’র নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুস্মিতা সাহা। ভূমি অফিসের দূর্ণিতির বিরুদ্ধে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্তাবধানে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে সরকারি সস্পত্তি উদ্ধার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রূপসা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুস্মিতা সাহা।
তিনি দু’টি মৌজার ১০.৭০ একর জমি দখলমুক্ত করে সরকারি জিম্মায় এনেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব জমি প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুদের ভোগ দখলে ছিলো। ইউএনও’র নির্দেশে সারর্টিফিকেট মামলার কেস নথিগুলো রেগুলার করা হয়েছে। ভিপি আদায় বৃদ্ধির জন্য অচল নথির পুরাতন ইজারাদারকে নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কারণে একদিকে স্বভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেন সাধারন জনগন। অপরদিকে জরিমানা আদায়ের ফলে সরকারী কোষাগারে অর্থ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের বরাদ্দকৃত ঘর সহ বিভিন্ন কাজ সঠিক ভাবে মনিটরিং করছেন। ফলে কাজের মান নিয়ে জটিলতা দুর হবে বলে জনসাধারন মনে করছেন।
উপজেলা কমিশনার (ভূমি) সুস্মিতা সাহা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগীতায় ভূমি অফিসটি শতভাগ দুর্ণীতিমুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছি। দালালদের কোন স্থান ভূমি অফিসে নাই। ইউএনও নাসরিন আক্তার বলেন, সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করে একটি জনকল্যাণমুখী গতিশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি। সকলের সহযোগিতায় অনিয়ম, দূর্ণিতি দূর করে মাদকমুক্ত মডেল উপজেলায় রূপান্তিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: কামাল উদ্দিন বাদশা বলেন, আমরা উদ্যামী ও সৎ একজন ইউএনও পেয়েছি। যতটুকু দেখেছি ওনি যথেষ্ট পরিশ্রমী ও বিচক্ষন একজন মানুষ। চিন্তা ভাবনা করেই যে কোন সিদ্ধান্ত নেন।