তরিকুল ইসলাম,খুলনা ব্যুরো।। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ভয়াল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ধেয়ে আসছে উপকূলের দিকে। এর প্রভাবে উপকূলীয় নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার (৯ নভেম্বর) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে এ কথা জানিয়েছে। শুক্রবার থেকে থেমে থেমে হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে, সঙ্গে বাতাসের গতিবেগও বেড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় তিন জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। বিশেষ করে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে কয়রা উপজেলার বেশ কিছু বেড়িবাঁধ। বুলবুলের প্রভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা খুলনার কয়রা-দাকোপ, সাতক্ষীরার শ্যামনগর-আশাশুনি ও বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সিডর-আইলাসহ বিভিন্ন দুর্যোগের কবলে পড়া এসব এলাকার সাধারণ মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্কে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবেও জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়ে বাড়িঘর, ফসল, মাছের ঘের ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে যে কয়টি জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, এর মধ্যে কয়রা অন্যতম।কয়রার হরিণখোলা এলাকার বৃদ্ধ আব্দুল হাকিম শেখ বলেন, ‘চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। সত্যি সত্যি যদি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে, তবে পুরো এলাকা ভেসে যাবে। এ এলাকায় প্রায় ১২ হাজার মানুষ বাস করে।’

হরিণখোলা এলাকাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪ / ২ পোল্ডারের আওতায়। ১০ বছর আগে ঘূর্ণিঝড় আইলায় এখানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। তাই প্রতিটি মানুষর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। উপকূলীয় জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৮৫৩টি সাইক্লোন শেল্টার। কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বেড়েছে বৃষ্টির সঙ্গে বাতাসের গতি। জোয়ারের পানি বৃদ্ধিতে ভাঙন আতঙ্কে কয়রার মানুষ। সৃষ্টিকর্তা যেন এই ভয়াবহ সংকট থেকে সবাইকে রক্ষা করেন।
গভীর সমুদ্রে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আতঙ্কে উপকূলের লাখ লাখ মানুষ। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করায় অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারে যেতে শুরু করেছেন। এদিকে এ তিন জেলার প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিংসহ সব সাইক্লোন শেল্টার ও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সার্বক্ষণিক খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কন্টোল রুম খোলা হয়েছে। এদিকে বুলবুল আঘাত আনলে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও বরগুনাসহ উপকূলীয় জনপদে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতার জন্য খুলনা নৌঘাঁটি তিতুমীরে পাঁচটি জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খুলনার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান জরুরি মেরামত করে মোটামুটি একটি পর্যায় নিয়ে এসেছি। আমাদের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। আশা করি, কোনও সমস্যা হবে না। সেখান থেকে প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি কতদূর পর্যন্ত আসছে তা রেকর্ডিং করা হচ্ছে। আমাদের প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী আমরা এসডি লেভেলে যারা আছি সবাই মাঠপর্যায়ে রয়েছি।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ৫ থেকে ৭ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে উপকুলীয় এলাকায়। যে কারণে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।