শেরপুর সংবাদদাতা।। শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের হাঁসধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারি শিক্ষিকাদের দ্বন্দ এখন চরমে। ওই দ্বন্দের জের ধরে সহকারি শিক্ষিকাদের ভয়ে স্কুলে যেতে পারে না প্রধান শিক্ষক। ওইসব অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান থানায় সাধারণ ডায়েরিসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছেন। ২ জানুয়ারী রবিবার সকালে ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করতে শ্রীবরদী থানার এসআই শফিকুর রহমান শফিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন যাবত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারি শিক্ষিকাদের দ্ব›েদ্বর কারণে নিয়মিত ক্লাশ হচ্ছে না। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, এ বিদ্যালয়ে ৩ জন সহকারি শিক্ষিকা। তারা হলেন, জিন্নাতুন নেছা, হোসনে আরা ও সুরমা আক্তার। তারা রহস্যজনক কারণে দীর্ঘদিন যাবত বিদ্যালয়ে পাঠদানসহ নানা বিষয়ে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে আসছেন। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে সহকারি শিক্ষিকা জিন্নাতুন নেছার ছোট ভাই স্থানীয় ভায়াডাঙ্গা বাজারে তাকে প্রকাশ্যে মারধর করে। এ ঘটনার পরিপেক্ষিতে আমি তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তির হস্তক্ষেপে বিষয়টি আপোষ-মিমাংসা হয়। সম্প্রতি জিন্নাতুন নেছা বিদ্যালয়ে দেরিতে আসার বিষয়টি উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসারকে জানাই। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই ৩ শিক্ষিকা তাকে বিদ্যালয়ে লাঞ্চিত করে। এমনকি বিদ্যালয়ে গেলে তাকে মারধর করবে বলে হুমকিও দেয়। এ ভয়ে আমি বিদ্যালয়ে যেতে পারছি না। নিরাপত্তা চেয়ে এ জন্য আমি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছি।
ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল আলীম ওইসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই শিক্ষিকারা এই বিদ্যালয়ে থাকলে যেকোনো মূর্হুতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এ জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে তাদেরকে অন্যত্র বদলীর আবেদন করা হয়েছে। ওইসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানার এসআই শফিকুর রহমান শফিক রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, তাদের মধ্যেকার দ্ব›দ্ব এখন চরমে। বিষয়টি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদারকে জানানো হবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল হক জানান, দীর্ঘদিন যাবত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারি শিক্ষিকাদের দ্ব›েদ্বর কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ওই ৩ শিক্ষিকার ওইসব অনিয়মের ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।