শেরপুর সংবাদদাতা।। শেরপুর শহরের থানা মোড়স্থ বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে পৌরসভার উদ্যোগে স্থাপিত জমিদারের প্রতিকৃতিসহ ঘোড়ার ভাস্কর্যটি অপসারণের দাবিতে আবারও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে নাগরিক সমাজ। ৯ ফেব্রæয়ারী রবিবার সকালে জেলঅ প্রশাসকের পক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) এটিএম জিয়াউল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম’র হাতে নাগরিক সমাজের আহবায়ক এডভোকেট মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান ও সদস্য সচিব মিনহাজ উদ্দিন মিনাল তাদের স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপি তুলে দেন। ওইসময় অন্যান্যের মধ্যে জেলা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলা, সাংবাদিক-মুক্তিযোদ্ধা তালাফতুফ হোসেন মঞ্জু, সাংবাদিক-আইনজীবী আব্দুর রহিম বাদল, জেলা ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটির সদস্য সচিব আ.স.ম সোহেল নয়ন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রায় ২ মাস পূর্বে শেরপুর শহরের থানা মোড়স্থ প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের সামনে পৌরসভার উদ্যোগে জমিদারের প্রতিকৃতিসহ ঘোড়ার ভাস্কর্যর্টি স্থাপনের ঘটনা অনভিপ্রেত, হটকারী ও দুঃখজনক। এ ছাড়া এটি শেরপুরের বিতর্কিত ও অত্যাচারী জমিদারদের প্রতিকৃতিসমেত হওয়ায় তা এখানকার ইতহাস-ঐতিহ্যের পরিপন্থি হওয়ার পাশাপাশি দেখতেও খুবই অশুভন। বিষয়টি নিয়ে শেরপুরে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হলে এবং তা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিযার সৃষ্টি হলে তা অপসারণে প্রথমতঃ গত ২৫ নভেম্বর জেলা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের তরফ থেকে জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে (১১ দফা দাবিসমেত) অবহিত করা হয়। এরপর গত ২ জানুয়ারী নবগঠিত শেরপুর নাগরিক সমাজের তরফ থেকে পৌরসভার মেয়রকে তা দ্রæততম সময়ে অপসারণের জন্য লিখিতভাবে দাবি জানানো হয়। পরবর্তীতে গত ১০ জানুয়ারী বিষয়টি নিয়ে জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় আলোচনার প্রেক্ষিতে দায়িত্বশীল নেতারাও তা বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের সামনে থেকে অপসারণে সহমত পোষন করেন। তদুপরি পৌর কর্তৃপক্ষ তা অপসারণে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় গত ২৩ জানুয়ারী শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ার অঙ্গনে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। সেই সাথে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে তা অপসারণে পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে আলটিমেটাম ঘোষনা করা হয়। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ সেই আলটিমেটাম সম্পর্কে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মারফত অবহিত হওয়ার পর বিতর্কিত ভাস্কর্যটি অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে গত ২৭ জানুয়ারী পৌরসভা সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই আলটিমেটাম প্রত্যাখান করেন পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন। সেই সাথে সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে করা মানববন্ধন নিয়ে তাচ্ছিল্য প্রকাশের পাশাপাশি ভাস্কর্যটি বঙ্গবন্ধু স্কয়ার অঙ্গনেই রাখার তথাকথিত যৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করা হলেও শেষোবধি তা ভিন্ন একটি জায়গা প্রাপ্তি সাপেক্ষে সুবিধাজনক সময়ে অপসারণ পূর্বক সেখানে প্রতিস্থাপনের জন্য পৌর পরিষদের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
কিন্তু পৌর পরিষদের সেই সিদ্ধান্তের প্রায় ২ সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও আজও ভাস্কর্যটি অপসারণে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। উপরন্তু পৌরসভার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক নেতাদের পরামর্শ মোতাবেক ভাস্কর্যটি দ্রæত অপসারণ সাপেক্ষে তা নিয়ে বিতর্কের অবসান কল্পে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভা ও আন্দোলনকারী নেতৃৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি মতবিনিময়/যৌথ/সমন্বয় সভা আয়োজনেও গ্রহণ করা হয়নি কার্যকর উদ্যোগ। এমনই অবস্থা চলমান থাকলে বিতর্কিত ভাস্কর্যটি অপসারণে নাগরিক সমাজের তরফ থেকে বৃহত্তর বা কঠিন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ ছাড়া কোন গত্যন্তর থাকবে না। আর সেটা হতে গেলে স্থানীয়ভাবে আইন শৃংখলা পরিস্থিতিরও অবনতির আশংকা রয়েছে। এমতাবস্থায় বিতর্কিত ওই ঘোড়ার ভাস্কর্যটি দ্রæত অপসারণ সাপেক্ষে তীব্র জন অসন্তোষ নিরসনকল্পে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
এদিকে, ঘোড়ার ভাস্কর্যটি দ্রুত অপসারণে নাগরিক সমাজের আবারও স্মারকলিপি প্রদান প্রসঙ্গে পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন বলেন, শেরপুরের ঐতিহ্য ঘোড়ার ভাস্কর্য আর বঙ্গবন্ধু সাংঘর্ষিক নয়। জেলা আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঘোড়ার ভাস্কর্যটি সুবিধাজনক সময়ে সরিয়ে তা সুবিধাজনক স্থানে প্রতিস্থাপন করা হবে।
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের সামনে ওই ঘোড়ার প্রতিকৃতি স্থাপনের প্রতিবাদে গত ১ জানুয়ারী শেরপুর শহরের চকবাজারে আওয়ামী লীগ নেতা মিনহাজ উদ্দিন মিনালের বাসায় এক সভায় অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ‘শেরপুর নাগরিক সমাজ’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে।