নিজস্ব প্রতিবেদক।। (৬)আমায় আড়ালে রেখে টানা ১০(দশ)দিন রাতের ঘুম হারাম করে,নাওয়া ,খাওয়ায় বেশ অনিয়মে ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত।পরিশ্রম ও ক্লান্তির কাছে হারতে নারাজ মিয়াভাই ঐ দুটোকেই পরাস্ত করেই ঘর লাগেন।ঘুরেফিরে পরীক্ষার চিন্তা মাথায় রেখে, যাকে যাকে রাজি খুশী করা দরকার তাঁদের সকলের দারস্হ হয়েছেন।দূতিয়ালদের পরামর্শে,সৌজন্যের খাতিরে যাঁর যাঁর কাছে মিয়াভাইকে পাঠিয়েছেন দ্বিধা হীন চিত্তে বিপদে বাঁচতে সেখানেই পৌঁছেছেন।
চূড়ান্ত ফয়সালার গুটি যাঁর হাতে তাঁকে ধরেই ছিলেন।যতক্ষন সম্মতির আশ্বাস মেলেনি ততক্ষন তাঁকে ছাড়েন নি। ধরে থেকে সদুত্তর ও সমাধানের আশ্বাস নিয়ে তারপর বাসায় ফিরেছেন।আমার মিয়াভাইয়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই যেকাজ তাঁকে করতে হবে সেকাজ উদ্ধার না হওয়া পর্য্যন্ত নাছোড়।নীতি নৈতিকতা বিরোধী কাজে নয়।একটা মানুষের গুনের ইতিবাচক উল্লেখযোগ্য দিক এটা।কাউকে অসন্মান,অমর্য্যাদা করাটা তাঁর স্বভাব বিরোধী কাজ বলে মনে করতেন।খুশী না করতে পারলেও কাউকে অখুশীতে কষ্ট দিতে সর্বদাই নারাজ ছিলেন।
সে কারনে,ছোট চাকরি করলেও ঐসময়ের সমাজের গুনীজনদের নিকট একটু গ্রহনযোগ্যতা ছিল এবং কোন আব্দার নিয়ে গেলেন,দুরছাঁই বলে তাড়িয়ে দিতেন না।বিপদ থেকে পরিত্রানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিকট একাধিক বার স্মরণাপন্ন হয়েছেন।তাদেরকে সত্য কথা জানিয়ে সমস্যা নিরসনে সহযোগিতা চেয়েছেন এবং সমাধান আদায়ও করেছেন।সবাইকে সংযুক্ত করার সক্ষমতা দেখিয়ে সফল হয়েছেন।
৩য় শ্রেণীর কর্মচারী হ’লেও দপ্তরের বড় কর্তারা মিয়াভাইকে খুব সমাদর করতেন।আমাকে নিয়ে স্বপ্নের কথা দিকবিদিক শূণ্য হয়ে তাঁর স্যারদেরকে আমার সামনেও বলতেন।আর আমি লজ্জ্বায় মাথা হেট করে এদিক ওদিকে তাকিয়ে থাকতাম।ন্যায় ন্যায্য কাজে কখনওই লজ্জ্বাবোধ করতেন না।বরং
ইতিবাচক কাজে যাঁরাই সহযোগিতা,সাহায্য করতেন তাঁদেরকে উনি উনাদের অলক্ষ্যে উনারা যা না তার থেকে বড় করে জনসম্মুখে তাড়স্বরে প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকতেন,দেখা গেছে।
এর জন্য,পরিবারের মধ্যে মাঝে মাঝে বকা খেতে হয়েছে।নীতিনির্ধারকবৃন্দের পরামর্শ ও নির্দেশনায় ,দূতিয়ালীদের মধ্যস্ততায় প্রস্তুত শান্তিফর্মুলা (সন্ধিচুক্তি)স্হীরকৃত,প্রণীত এবং “জেন্টেলমেন্ট এ্যাগ্রিমেন্টে” উভয় পক্ষ অভিন্ন মত প্রদানে সায় দিয়ে চূড়ান্ত করেই বাসায় ফিরেন। প্রায় দু সপ্তাহ ব্যাপী চলমান দুশ্চিন্তা,ভয়,আতংক, আশংকার গুমোট অস্বস্তিকর পরিস্থিতি ধৈর্য্যের সাথে মোকাবিলা করে জয়ী হ’য়েই আমাদের সবার মাথার ছাতা “বটবৃক্ষ”ভয়কে জয় করে বাসার দুয়ারে আমার মিয়াভাই।
বাসায় পা ফেলার ভঙ্গীতেই বোঝা গেল।মুখে এক ঝলক হাসি।দুহাতে দুটো বাজার ভর্তি ব্যাগ।সর্বদা আমির হোসেন বলেই তিনি আমায় ডাকতেন।সেই অতিপরিচিত,আপনার একান্তজনের চেনাকন্ঠের মধুর ডাকে শুধালেন দেখ কি কি বাজার নিয়ে এসেছি!কারন ভাই ভাবীর তখনও আমিই একমাত্র অবলম্বন।ভাবীকে ডাক।সেদিনের সেকি মিষ্টি হাসি মিয়াভাইয়ের মুখ মন্ডলে।মনে হয় আজও ঐ মধুর স্বরে আমায় ডাকছেন।আর কখনও এ ডাক শুনতে পাওয়া যাবেনা।সারা জীবনই মিয়াভাইর কাছে ছিলাম।বাবা থেকেও কাছে থাকতে পারেন নি।
পিতৃ আদরের অনুভূতি টুকু মিয়াভাইকেই মিটাতে হয়েছে।বাবাও নেই,মিয়াভাইও আর ফিরবেন না।এয়াতিমের কষ্ট নিজেরা এয়াতিম হয়েও মেঝো ভাইকে সাথে নিয়ে নিজের ব্যথা বেদনা আড়াল করে আমাকে ভুলিয়ে রাখতে সবসময়ই চেষ্টা করেছেন।আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা কখনওই আমায় শোনাতেন না। অসমাপ্ত,চলবে….