
লালমনিরহাট সংবাদদাতা।। “পাশে আছি মানবিকতায়, জেগে আছি পাহারায়, চেকপোস্টে আছি সুরক্ষায়’ এই মূলমন্ত্র ধারণ করে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতদিন জনগণের সুরক্ষা ও সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা নিজেও প্রতিনিয়ত ছুটে চলেছেন জেলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে।
লকডাউনের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া পরিবারের মাঝে জেলা পুলিশের মানবিক সহায়তায় রাতের আঁধারে শহর থেকে শুরু করে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়, নরসুন্দর, নাইটগার্ড এবং পরিবহন শ্রমিকদের মাঝেও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা জানান, কোভিড ১৯-এর প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই জেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে এবং বিভিন্ন উপজেলায় মোট ১১টি চেকপোস্ট বসিয়ে লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা পুলিশ। জনসচেতনতার জন্য লিফলেট বিতরণ, ব্যানার-ফেস্টুন স্থাপন, পুলিশ প্যাট্রল গাড়ির মাধ্যমে মাইকিং করা হয়েছে। এমনকি প্রতি ওয়াক্তের আজানের পর মসজিদের মাইকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার অব্যাহত আছে।
এসপি আরো জানান, এ পর্যন্ত যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের আইসোলেশন নিশ্চিত করা, নিজস্ব অর্থায়নে খাবার সরবরাহ করা, ডাক্তার ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদেরও উপহারসামগ্রী এবং অভিনন্দনপত্র দেওয়া হয়েছে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করা হয়েছে।
সম্প্রতি সরকারের নির্দেশে মার্কেট ও দোকানপাট খোলার পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের জন্য পুলিশ কাজ করে যাচ্ছেন।
পুুুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা আরো জানান, এ পর্যন্ত বিদেশ ফেরত ৩৯১ জন এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ১৮৮৯ জনের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতকরণে তাদের বাড়িতে লাল পতাকা টাঙিয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা পুলিশ। ইউনিয়ন পর্যায়ে ওয়ার্ডভিত্তিক ৪২৩টি ‘করোনা অবজারভেশন অ্যান্ড সাপোর্ট টিম’ গঠন করা হয়েছে। আপৎকালীন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রতিটি থানায় কুইক রেসপন্স টিম করা হয়েছে। করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেও পুলিশ কাজ করছে। এসপি আবিদা সুলতানা আরও জানান, পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষায়ও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে স্থাপন করা হয়েছে জীবাণুনাশক ট্যানেল। পুলিশ লাইন্সে ৫ সদস্যের ইমারজেন্সি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের মাঝে দফায় দফায় পিপিই, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস, ভিটামিন সি, ডি, জিংক ট্যাবলেট সরবরাহসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী বিরতণ করা হয়েছে।