রিপন হোসেন সাজু,মনিরামপুর (যশোর) অফিস।। কয়েকমাস আগে যশোরের মনিরামপুর পৌরশহরের ফায়ার সার্ভিসের পিছনে বাসার গ্রিল ভেঙ্গে চুরি হয় থানার এসআই জহির রায়হানের নতুন পালসার মোটরসাইকেলটি। তার আগে একই বাসা থেকে অনুরূপভাবে চুরি হয় সাংবাদিক ফারুক আলমের হিরোহোন্ডা মোটরসাইকেলটি।
শুধু এসআই জহির রায়হান অথবা সাংবাদিক ফারুক আলমের মোটরসাইকেল নয়, একইভাবে গত একবছরে মনিরামপুরে চুরি হয় কলেজ শিক্ষক প্রবীর রায় চৌধুরী ব্যালটের পালসার, আইনজীবী সুমনের পালসার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান, ব্যাংক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, দক্ষিনমাথায় ওয়ালটন শোরুমের মালিক মামুনের অ্যাপাসিসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল।
অধিকাংশ চুরির ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়। কিন্তু পুলিশ এ পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি, উদ্ধার করতে পারেনি একটি মোটর সাইকেলও। তবে রোববার বিকেলে একজন স্কুল শিক্ষকের মোটরসাইকেলটি চুরি করে পালানোর সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে আন্তজেলা মোটরসাইকেল চোর সিন্ডকেটের দুই সদস্য।উদ্ধার হয়েছে শিক্ষকের মোটরসাইকেলটিও।এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলো গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার পারকরফা গ্রামের মতি মোল্যার ছেলে নূর ইসলাম এবং খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার গাড়াখোলা গ্রামের মৃত জাকির হোসেনের ছেলে আকতার হোসেন। পুলিশ সোমবার তাদেরকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। জানাযায়, মনিরামপুরে একের পর এক মোটরসাইকেল চুরি হওয়ায় মোটরসাইকেল মালিকদের মধ্যে রিতিমত চুরি আতংক বিরাজ করছে।
কলেজ শিক্ষক প্রবীর রায় চৌধুরী জানান, তার পালসারটি চুরি হওয়ার পর নিরাপত্তহীনতার কারনে পুনরায় আর কোন মোটরসাইকেল কেনা হয়নি। ব্যাংক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, বিয়ে বাড়ির সামনে থেকে দিনেরবেলা তার নতুন মোটরসাইকেলটি চুরি হবার পর থানায় জিডি করা হয়। কিন্তু পুলিশ তার মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে পারেনি। এসআই জহির রায়হান অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান, তার পালসারটি চুরি হবার পর এখনও উদ্ধার করতে পারেনি। তবে চেষ্টা চলছে।
উপজেলার কুলটিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক উত্তম কুমার মন্ডল জানান, রোববার বিকেলে তিনি নিজের ডিসকভার মোটরসাইকেল চালিয়ে মশিয়াহাটি বাজারে যান। একটি ফার্মেসীর(ওষুধের দোকান) সামনে মোটরসাইকেলটি রেখে তিনি কেনাকাটা করতে যান। মুহুর্তের মধ্যে দুই যুবক তার তালা ভেঙ্গে মোটরসাইকেলটি চুরি করে পালানোর সময় তিনি দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন। এ সময় বাজারের লোকজন ধাওয়া করে মোটরসাইকেলসহ তাদেরকে আটকের পর মারপিট করে।
খবর পেয়ে পুলিশ তাদেরকে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় স্কুল শিক্ষক উত্তম কুমার মন্ডল বাদি হয়ে আটক নুর ইসলাম এবং আকতার হোসেনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত অরো দুই ব্যক্তির নামে থানায় একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই আবদুর রহমান জানান, আটক দুই যুবক আন্তজেলা মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের সদস্য। সোমবার তাদেরকে আদালতে চালান দিয়ে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
ওসি(তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে জানাগেছে আটককৃতরা আন্তজেলা মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের সদস্য। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ন তথ্য উদঘাঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।