রাকিবুল হাসান রাকিব।। মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আযহার কুরবানীর জন্য জয়পুরহাটে প্রায় দেড় লাখ পশু প্রস্তুত। করোনা পরিস্থিতির কারনে অনলাইনে পশু ক্রয়-বিক্রয় সুবিধা রয়েছে।
এবার জেলায় কুরবানীর জন্য পশু প্রয়োজন হবে এক লাখ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার এর চাহিদার বিপরীতে কোরবানীর জন্য যোগ্য ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৮৭টি পশু মজুদ রয়েছে যা জেলার কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ১৫ হাজার পশু অতিরিক্ত থাকবে। জেলার ৫ উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় কুরবানী পশুর চাহিদা রয়েছে ৪০ হাজার ৪৮০, পাঁচবিবি উপজেলায় ১৯ হাজার ৩৪১, আক্কেলপুর উপজেলায় ২৪ হাজার ৩০৭, কালাই উপজেলা ৩৫ হাজার ৯৫৫ এবং ক্ষেতলাল উপজেলায় ১৪ হাজার ৫০৪। করোনা পরিস্থিতির কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পশুর হাটবাজারগুলোতে গরু ছাগল উঠলেও কেনা-বেচা তেমন এখনো জমে উঠেনি।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, প্রাকৃতিক উপায়ে মোটা তাজা করা গরুর গোস্ত খেলে অসুস্থ হওয়ার ঝুকি থাকে না, তাই জেলার সকল খামারীদেরকে তদারকি করার মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোটাতাজাকরণ কর্মসূচির আওতায় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে খামারীরা পশু প্রস্তুত করেছে। ছোট বড় মিলে জেলায় ১১ হাজার ৪৭৪টি পশুর খামারে বিক্রয় উপযোগী মজুদ পশুর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ৬১ হাজার ২২৪টি। ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ৮৬ হাজার ৬৩টি। ছোট বড় মিলে জেলায় পশুর হাট রয়েছে ২৩টি। জেলা শহরের সবচেয়ে বড় পশুরহাট নতুনহাটে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার থেকে শুরু করে উপরে ১০ লাখ টাকার গরু আমদানি হলেও বেচা-কেনা তেমন শুরু হয়নি বলে জানান হাটের ইজারাদার কালীচরণ আগরওয়ালা ও জাহিদ ইকবাল। হাট ইজারাদারদের পক্ষ থেকে, করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাটে আগত পশু ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য ৪টি স্প্রে মেশিন, সতর্কতামূলক মাইকিং, হাটের চতুরদিকে হাত ধোয়ার জন্য ১০০টি ট্যাপ বসানো হয়েছে এবং ২০ টি সিসি টিভি দ্বারা সর্বদা তদারকি করা হচ্ছে কুরবানির হাটকে। হাটের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে।
জেলার নতুনহাট, জামালগঞ্জ, পাঁচবিবি, দূর্গাদহ, বটতলী, ইটাখোলা, পুনট, আক্কেলপুর কোরবানীর বিভিন্ন পশুরহাট সূত্রে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে কোরবানীর পশুরহাট তেমন জমে উঠেনি তবে প্রতিবারের ন্যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, নোয়াখালী, চুয়াডাঙ্গা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কিছু পাইকারী গরু ব্যবসায়ী এসে স্বল্প পরিসরে গরু কেনা শুরু করেছেন। বাজারে ১১০ থেকে ১২০ কেজি মাংস হবে এমন গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। পাঁচবিবি উপজেলার মাঝিনা গ্রামের কৃষক অভিজিৎ চক্রবর্তী গরুর দাম হাকছেন ৬ লাখ টাকা। ক্রেতারা দাম করেছেন সাড়ে ৪ লাখ টাকা। গরুটির ওজন ৯শ কেজি। করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্রেতা সমাগম কম হওয়ায় খামারীরা চিন্তিত বলে জানান কুঠিবাড়ি ব্রীজ এলাকার খামারী দুলু মিয়া সহ একাধিক খামারী। গরুর পাশাপাশি ছাগলও বাজারে উঠেছে। ১৫ থেকে ২৫ কেজি মাংস হবে এমন ছাগল ৩৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার পর্যন্ত দাম করতে দেখা গেছে।
জেলা প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুর রহমান জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে জেলায় এবার অনলাইন পদ্ধতিতে কুরবানী পশুরহাট, জয়পুরহাট নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে। এই গ্রুপের মাধ্যমে জয়পুরহাট জেলার খামারিবৃন্দ তাদের গরুর ছবি, ওজন, সম্ভাব্য মূল্য, খামারির নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সহ গ্রুপে পোস্ট করেছে। আগ্রহী সম্মানীত কুরবানী ক্রেতারা ঘরে বসে স্বাস্থ্য ঝুকি এড়াতে ফেসবুকে গিয়ে অনলাইন কুরবানি পশুর হাট, জয়পুরহাট (বাংলায়) লিখে সার্চ দিলে তাদের পছন্দের কুরবানীর পশু মালিকের সাথে যোগাযোগ করে নিরাপদে ন্যায্য (বাজার) মূল্যে পশু ক্রয় করতে পারবেন। তিনি আরো জানান, হাটে গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রাণিস¤পদ বিভাগের ভ্যাটেনারী সার্জনের নেতৃত্বে ৩ থেকে ৫ সদস্যের ৯টি ভ্যাটেনারী টীম সার্বক্ষণিক ভাবে দায়িত্ব পালন করবে। তিনি আরো জানান স্থানীয় বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘জাকস ফাউন্ডেশন’ দেশিয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ কর্মসূচির আওতায় ৪৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।
জেলা ডেইরি ফার্মাস এসোসিয়েশন এর সভাপতি অরন্য এগ্রো ডেইরি’র সত্বাধিকারী শাদমান আলিফ মীম রায়হান জয় জানান, অনলাইন পদ্ধতিটা নতুন, তবে এ পদ্ধতি সম্পর্কে যদি আরো আগে থেকে সাধারণ মানুষকে জানানো যেত এবং জেলার সকল খামারীদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেত তাহলে আমরা এর সুফল বেশি পেতাম। তবে অনলাইনে স্বল্প পরিসরে পশু কেনা বেচা শুরু হয়েছে। অনলাইনে কুরবানী ক্রয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় বড় হাটগুলোতে বুথ স্থাপন করার দাবি জানান তিনি। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ১০০টি গরু রয়েছে। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু পালন করা হয়েছে, গো-খাদ্যের মূল্য বেশি থাকায় বাজার পরিস্থিতি ভাল না হওয়ায় করোনার কারনে এবার গরু প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবির জানান, আইন-শৃংখলা বাহিনীর কড়া নজরদারী রয়েছে হাটবাজারগুলোতে। এবার হাটে ভারতীয় গরু এখনো চোখে পড়েনি এবং ভারতীয় গরু ঢুকতে দেওয়া হবে না।