নিজস্ব প্রতিবেদক।। আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের গোহাইলবাড়ী এলাকায় এক ভূমিহীন নারীর বসতবাড়ি দখলচেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মো. আব্দুল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মোছাঃ সামসুন্নাহার (৪৫) গত ১ আগস্ট ২০২৫-এর একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোহাইলবাড়ী মৌজাস্থিত সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ৪ শতাংশ ভূমিহীন সম্পত্তিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করছেন সামসুন্নাহার। কিন্তু প্রতিবেশী মো. আব্দুল (৫০), তার ভাই লালে (৫৫), শহিদ মিয়া (৫৬) এবং সহযোগী ফারহানা বেগম ও আমানত হোসেন ওই সম্পত্তি জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে।
ভুক্তভোগী নারীর দাবি,১নং বিবাদী আব্দুল তাকে দীর্ঘদিন ধরে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় আব্দুল তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়। গত ১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বেলা ১১টার দিকে বিবাদীরা দলবদ্ধভাবে তার ঘরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ১নং বিবাদী আব্দুল গত ২৪শে জুলাইয়ের ‘গণহত্যা’ মামলার অন্যতম আসামি। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর দাবি, তার নামে সাভার মডেল থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না।
সামসুন্নাহার জানান, আব্দুল একজন লম্পট ও লোভী প্রকৃতির লোক। নির্জন স্থানে পেলেই সে তাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করে। বর্তমানে বিবাদীদের ভয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই নারী ও তার পরিবার। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া “আমি একজন ভূমিহীন মানুষ, সরকার আমাকে এই জায়গা দিয়েছে। কিন্তু আব্দুলরা আমাকে এলাকা ছাড়া করতে চায়। সে খুনের মামলার আসামি হয়েও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, আর আমি নিজের বাড়িতেই ভয়ে থাকি।” এই বিষয়ে আশুলিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে পরোয়ানাভুক্ত আসামি কেন গ্রেপ্তার হচ্ছে না, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এবিডি.কম