বিশেষ প্রতিনিধি।। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে করোনার জাল সনদ ও ভারতীয় ল্যাগেজ ব্যবসা পরিচালনা করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন সংবাদিক পরিচয় দানকারী দুই সাংবাদিক আশরাফ ও আনিছ।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক পরিচয় দানকারী আশরাফ ও আনিছ দুজনই অন্য জেলা থেকে বেনাপোলে এসে বসবাস করেন। তারা দু’জন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রশাসনকে বিভিন্ন ভাবে ম্যানেজ করে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে করোনার জাল সনদ ও ল্যাগেজ ব্যবসা করে আসছেন।
গত ১৬ই ডিসেম্বর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায় সাংবাদিক পরিচয় দান কারী আশরাফ ভারত থেকে পার্সপোর্ট যাত্রির মাধ্যমে বিভিন্ন মালামাল এনে কাস্টম হাউসে প্রবেশ করলে কাস্টম হাউজের দায়িত্বরত অফিসাররা উক্ত মালামাল আটক করার উদ্দেশ্যে ঘেরাও করে।
এ সময় আশরাফ কাস্টম ইমিগ্রেশনের ভেতর তার মাল কেন আটক করা হলো বলে দায়িত্বরত অফিসারদের গাঁয়ে আঁঘাত করে তারা আনিত মালামাল কাস্টমসের ভেতর হইতে নিজ হাতে বাহির করে আনেন। উক্ত ঘটনার পর থেকে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী আশরাফকে কাস্টম হাউসে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করা করেছে কাস্টমস হাউজের দায়িত্বরত অফিসার।
এছাড়া বেনাপোল চেকপোষ্টের একাধিক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে যে সকল যাত্রী ভারতে প্রবেশ করে তাদের জাল করোনা রিপোর্ট সনদ তৈরি করে দিয়ে থাকেন সাংবাদিক পরিচয় দানকারী আশরাফ ও আনিস।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টম হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, আশরাফ দীর্ঘদিন যাবৎ সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইমিগ্রেশনের বাইরে ও ভেতর থেকে অর্থ আদায় করে থাকেন এবং সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ ভাবে ঔষধ ও বিভিন্ন রকম মালামাল নিয়ে এসে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার পথে কেউ বাঁধা হয়ে দাঁড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে হয়রানি করেন বলে তিনি আমাদেরকে জানান।
এছাড়াও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, সাংবাদিক পরিচয় দানকারী আশরাফ ও আনিস একটি চক্রের মাধ্যমে ভোর হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্নভাবে বাংলাদেশ এবং ভারতের পার্সপোর্ট যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে যাচ্ছেন। তাছাড়া চৌধুরী সুপার মার্কেটের ভেতর একটি ঘর নিয়ে তার সারাদিন করোনার জাল সার্টিফিকেট তৈরী করে যাত্রীদের কাছ থেকে ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা নিয়ে পারাপার করছেন। বর্তমান তারা এ জাল জালিয়াতীর কাজ করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
উক্ত বিষয়ে সাংবাদিক আশরাফ ও তার সহযোগী আনিস-কে একাধিক বার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়-নি।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/শিরিন আলম